Cvoice24.com

বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্যে ফসল নষ্ট, বিপাকে সাতকানিয়ার দেড় হাজার কৃষক

সাতকানিয়া প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১৯:১৩, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্যে ফসল নষ্ট, বিপাকে সাতকানিয়ার দেড় হাজার কৃষক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার দোহাজারী-কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্লান্টের অপসারিত বর্জ্যে পার্শ্ববর্তী ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতিসহ জমির উর্বরতা কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টার দিকে ফসলি জমির ক্ষতির প্রতিবাদে পিকিং প্লান্টের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় কৃষকরা।

জানা যায়, দোহাজারী-কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং প্লান্ট স্থাপনের শুরু থেকেই স্থানীয় কৃষকরা বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে মল্ল্যারখালের পানি দূষিত হয়ে ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি প্লান্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন। কৃষকরা বর্জ্যের কারণে জমির ফসল ও উর্বরতা কমে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে মল্ল্যারখালে বর্জ্য অপসারণে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। তখন বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মল্ল্যারখালের পানি পরিদর্শন করেই দায়িত্ব শেষ করেন বলে কৃষকদের অভিযোগ।

উল্লেখ্য, দোহাজারী-কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং প্লান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করা হয়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফার্নেস অয়েল থেকে অপসারিত বর্জ্য অত্যন্ত বিষাক্ত। এর ফলে মল্ল্যারখালে দেশীয় কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষাক্ত বর্জ্য জীববৈচিত্র্যও ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে অনেকে জানিয়েছেন। অপসারিত বর্জ্যের বিষক্রিয়ায় মল্ল্যারখালের দেশীয় মাছের প্রজনন ক্ষমতা কমে গেছে বলে পরিবেশবিদদের দাবি।

কালিয়াইশ ইউনিয়নের মল্ল্যার বিল, মলেয়াবাদ, রসুলাবাদ ও নতুন চাগাচর এলাকার কৃষকেরা কৃষিপণ্য উৎপাদনে মল্ল্যারখালের পানির ওপর নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুম কিংবা অনাবৃষ্টির সময় এসব এলাকার কৃষকেরা মল্ল্যারখালের পানি দিয়ে সেচের মাধ্যমে কৃষিকাজ করেন। বর্তমানে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষাক্ত বর্জ্যে খালের সেচের পানি দূষিত হওয়ায় কৃষকেরা মহাবিপাকে পড়েছেন।

মল্ল্যার বিল এলাকার কৃষক লেয়াকত আলী, জুনু মিয়া, মো. ইদ্রিস মিয়া ও আবুল কালাম প্রকাশ কালুসহ অধিকাংশ কৃষক জানান, প্লান্ট চালু থাকা অবস্থায় বা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় অপসারিত বর্জ্যের কারণে খালের পানি তৈলাক্ত ও কালো হয়ে যায়। এই পানি জমিতে সেচ দেওয়া হলে ধান, সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের শস্যগাছের গোড়া পচতে শুরু করে। এছাড়া বিষাক্ত পানি দিয়ে সেচ দেওয়া জমি শুকিয়ে যাওয়ার পর সেখানে হলুদ রঙের ঘাস জন্মাতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান। ফলে বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে মল্ল্যার বিলের ৫ হাজার একর, মলেয়াবাদের আড়াই হাজার একর, রসুলাবাদের দেড় হাজার একর এবং নতুন চাগাচরের সাড়ে ৪ হাজার একর দুই ফসলি জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে বলে তাদের দাবি। এতে প্রায় দেড় হাজার কৃষক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা যায়।

যোগাযোগ করা হলে ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্টের ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এত দামি ফার্নেস অয়েল খালে ছেড়ে দেব—এটা পাগল ছাড়া আর কেউ বিশ্বাস করবে না। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার দামি ফার্নেস অয়েল দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ কক্সবাজার পর্যন্ত বিদ্যুতের ভোল্টেজ ঠিক রাখতে প্লান্টটি চালু রেখেছে। তাছাড়া আমাদের প্লান্ট থেকে বর্জ্য বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এরপরও কৃষকদের দাবির ভিত্তিতে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। সরেজমিন তদন্ত করে কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে খবর পেয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে সাতকানিয়া থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত হয়। পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে মানববন্ধন শেষ হয়।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কৃষকদের দাবি নিঃসন্দেহে যৌক্তিক ও ন্যায্য। প্লান্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাওয়ার প্লান্টসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশের নজরদারি অব্যাহত আছে।’

চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর