৩৫ বছর পর কৈশোরে ফেরা, স্মৃতির উচ্ছ্বাসে মিরসরাই এসএসসি ’৯১
ফিরোজ মাহমুদ, মিরসরাই
সময় গড়িয়েছে তিন দশকেরও বেশি। জীবনের ব্যস্ততা, কর্মক্ষেত্র, সংসার আর নানা দায়িত্বে ছড়িয়ে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্তু বন্ধুত্বের টান যেন কখনোই পুরোনো হয় না। সেই বন্ধুত্বের বন্ধনকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতেই চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এসএসসি ’৯১ ব্যাচের ঈদ পুনর্মিলনী ও মিলনমেলা।
রবিবার (৩১ মে) উপজেলার আরশিনগর ফিউচার পার্কে দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রায় চার শতাধিক বন্ধু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এক ছাদের নিচে মিলিত হয়ে যেন আবারও শৈশব-কৈশোরের দিনগুলোতে ফিরে যান তারা।
সকালের শুরু থেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। কেউ পুরোনো বন্ধুকে জড়িয়ে ধরছেন, কেউ স্কুলজীবনের স্মৃতি রোমন্থন করছেন। অনেকের সঙ্গে বহু বছর পর দেখা হওয়ায় আবেগঘন মুহূর্তও তৈরি হয়। স্মৃতিচারণে উঠে আসে স্কুলের ক্লাসরুম, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো নানা মধুর সময়ের গল্প।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল ফটোসেশন, কেক কাটা, বিভিন্ন খেলাধুলা, মধ্যাহ্নভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র। বন্ধুদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, প্রধান উপদেষ্টা দিদারুল আলম মিয়াজী, আহ্বায়ক মেজবাউল আলম মানিক, সদস্য সচিব তপন ধুম, সমন্বয়ক শাহিনুল ইসলাম স্বপন, নিজাম উদ্দিন কমিশনার, মাঈন উদ্দিনসহ ব্যাচের সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা দিদারুল আলম মিয়াজী বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি, আমাদের ভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু আজকের এই আয়োজনে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। এখানে সবাই বন্ধু। বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতেই আমরা একত্রিত হয়েছি।’
তিনি জানান, এসএসসি ’৯১ ব্যাচ শুধু পুনর্মিলনী আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেও নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, অসহায় মানুষের সহায়তা, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া বন্ধুদের সহযোগিতাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সংগঠনটি।’
‘আগামী দিনে আমরা আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই, যেন মিরসরাই ’৯১ সত্যিকার অর্থেই একটি গর্বের ব্যাচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়,’ বলেন তিনি।
অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মেজবাউল আলম মানিক বলেন, ‘১৯৯১ সালের সেই বন্ধুদের নিয়ে ৩৫ বছর পর এমন একটি মিলনমেলা আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। পুরোনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে মনে হয়েছে আবার সেই শৈশব আর কৈশোরে ফিরে গেছি।’
তার ভাষায়, ‘বন্ধুর প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো, আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের ব্যাচের মূল লক্ষ্য।’
সদস্য সচিব তপন ধুম বলেন, কর্মব্যস্ত জীবনের নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও এমন পুনর্মিলনী পুরোনো সম্পর্কগুলোকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন হবে এবং বন্ধুত্বের এই বন্ধন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও আরও শক্তিশালী হবে।
দিন শেষে বিদায়ের ক্ষণ এলেও অংশগ্রহণকারীদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। স্মৃতিময় একটি দিন সঙ্গে নিয়ে তারা ফিরেছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। তবে সবার প্রত্যাশা একটাই—বন্ধুত্বের এই মিলনমেলা যেন নিয়মিত আয়োজন হয়ে ফিরে আসে, আর সময়ের দূরত্বকে হার মানিয়ে ব
ফিচার সব খবর















