গাছ লাগিয়ে প্রতিবাদ পরিবেশকর্মীদের
চমেক বার্ন ইউনিট, পাহাড় না কাটার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট নির্মাণ প্রকল্পে পাহাড় কাটার অভিযোগ ওঠে। পরে দুই উপদেষ্টার (স্বাস্থ্য ও পরিবেশ) হস্তক্ষেপে পাহাড় না কেটে বার্ন ইউনিট প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির সপ্তাহ না পেরুতেই গেট বন্ধ করে পাহাড় কাটতে শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এর প্রতিবাদে বুধবার (২২ জানুয়ারি) প্রকল্প এলাকায় আড়াই শতাধিক গাছ লাগিয়ে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রামের পরিবেশকর্মী ও পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন। পরিবেশকর্মীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগও অংশ নেয় গাছ লাগানোর কর্মসূচিতে।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, আমরা উন্নয়নের বিপক্ষে নই। চট্টগ্রামে বার্ন ইউনিটের অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু সেটি পাহাড় কেটে, পরিবেশ ধ্বংস করে নয়। কয়েকজনকে বাঁচানোর নামে লক্ষ কোটি মানুষকে মৃত্যুঝুঁকিতে ফেলার অধিকার কারও নেই। কয়েকজন মানুষকে অক্সিজেন দিতে গিয়ে লক্ষ কোটি মানুষের প্রাকৃতিক অক্সিজেন ধ্বংস করার অধিকার আপনাদের নেই।
কর্মসূচিতে অংশ নেন পরিবেশবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মাহফুজুর রহমান, ডা. মনজুরুল করিম বিপ্লব, পরিবেশকর্মী ঋতু পারভীন, রাশেদ সুফিয়ান, মো. শফিকুল ইসলাম খান, মাহমুদ মুরাদ, এআরটি রাহী, মো. রহিম, আনোয়ার জাহান রোজি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাজুসহ পরিবেশ সংগঠন সম্মিলিত পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), ভোরের আলোসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ মে একনেকে অনুমোদন পায় ১৫০ শয্যার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট নির্মাণ প্রকল্প। নগরীর চট্টেশ্বরী রোডে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের পশ্চিমে গোয়াছি বাগান এলাকায় ২৮৫ কোটি টাকার এ প্রকল্পের মধ্যে চীন সরকার অর্থায়ন করবে ১৮০ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ১০৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় একটি ছয়তলা ভবন নির্মিত হবে।
তবে, অনুমতি পাওয়ার আগেই পাহাড় কেটে সেখানে প্রকল্পের কাজ শুরু করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে চমেক কর্তৃপক্ষ। পাহাড়ের কিছু অংশ কাটার পর বিষয়টি নজরে আসে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের।
স্বাস্থ্য সব খবর















