Cvoice24.com

তীব্র শীতের মধ্যে ইউক্রেনে ৪৫০ ড্রোন ও ৭০ ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১:০৮, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তীব্র শীতের মধ্যে ইউক্রেনে ৪৫০ ড্রোন ও ৭০ ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার

তীব্র শীতকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অন্তত ৪৫০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন এবং ৭০টি বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই এই হামলা চালানো হয়।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, যুদ্ধবিরতি রোববার পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা থাকলেও ইউক্রেনের দাবি—এই সময়েও রুশ বাহিনী হামলা অব্যাহত রেখেছে।

কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, প্রচণ্ড শীতের মধ্যে রাতে রাজধানীতে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়। তিনি নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের আহ্বান জানান। পরে জানান, হামলায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন।

পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভেও রুশ গোলাবর্ষণে দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানান আঞ্চলিক সামরিক প্রধান ওলেগ সিনেগুবভ। তিনি বলেন, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই হামলায় মূলত জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল তীব্র শীতের মধ্যে শহরগুলোকে তাপ ও বিদ্যুৎবিহীন করে ফেলা।

রাতে কিয়েভে তাপমাত্রা নেমে আসে মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, আর খারকিভে তা ছিল মাইনাস ২৩ ডিগ্রি পর্যন্ত।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সোমবার ইউক্রেনের পাঁচটি অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে রাশিয়া অন্তত ৪৫০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন এবং ৭০টি বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। প্রায় চার বছরের যুদ্ধে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর এটি ছিল অন্যতম বড় আক্রমণ বলে দাবি করেন তিনি।

ইউক্রেনের বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি ডিটেক এক বিবৃতিতে জানায়, চলতি বছরে বিদ্যুৎ খাতে এটিই সবচেয়ে বড় রুশ হামলা। এতে কোম্পানির অন্তত ১০ জন কর্মচারী আহত হয়েছেন।

সোমবার ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের কিয়েভ সফরের পরপরই এই হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে যুদ্ধ অবসানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল।

উল্লেখ্য, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের চার বছর পূর্ণ হবে। এখনো ভূখণ্ড ইস্যুতে বড় ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে। রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চাইলেও কিয়েভ তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।