Cvoice24.com

আফগানিস্তানে নতুন আইন 
স্ত্রীকে ‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত মারতে পারবে স্বামী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮:২৪, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
স্ত্রীকে ‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত মারতে পারবে স্বামী

আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে তালেবান সরকারের জারি করা একটি ফৌজদারি আইন। ব্রিটিশ অনলাইন সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

খবরে বলা হয়, তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ৯০ পাতার নতুন এই দণ্ডবিধিতে স্বাক্ষর করেছেন। পশতু ভাষায় প্রণীত আইনটির নাম ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’, যার অর্থ আদালতের ফৌজদারি বা দণ্ডবিধি সংক্রান্ত নিয়মাবলী। ইতোমধ্যে এই দণ্ডবিধি আফগানিস্তানের বিভিন্ন আদালতে বিতরণ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো স্বামী যদি ‘অতিরিক্ত মাত্রার শক্তি’ প্রয়োগ করে স্ত্রীর দৃশ্যমান জখম বা হাড় ভেঙে ফেলে, তাহলে তার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে শাস্তি কার্যকর হবে তখনই, যখন নির্যাতিত স্ত্রী আদালতে নির্যাতনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম হবেন।

এছাড়া, নির্যাতিত নারীকে সম্পূর্ণ হিজাব পরা অবস্থায় বিচারকের সামনে তার জখম প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সময় তার সঙ্গে স্বামী অথবা প্রাপ্তবয়স্ক কোনো পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আইনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিবাহিত কোনো নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। বিষয়টি নারীদের চলাফেরা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর নতুন বিধিনিষেধ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন এই দণ্ডবিধি আফগান সমাজকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে। এগুলো হচ্ছে, ধর্মীয় বিদ্বান (উলামা), অভিজাত (আশরাফ), মধ্য শ্রেণি এবং নিম্ন শ্রেণি। 

এই ব্যবস্থায় একই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি নির্ধারণে অপরাধের তীব্রতার চেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির সামাজিক অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে বলা হয়েছে।