যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মধ্যেই ইরান-রাশিয়ার নৌ-মহড়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে যৌথ নৌ-মহড়া পরিচালনা করেছে ইরান ও রাশিয়া। নৌবাহিনী সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ মহড়া পরিচালনা করা হয় ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (আইআরএনএ) জানিয়েছে, ওমান উপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
আইআরএনএ’র তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রুশ নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারবাহী জাহাজকে বিদায় জানানোর মাধ্যমে মহড়ার সমাপ্তি ঘটে। সামুদ্রিক কূটনীতি জোরদার, সামরিক মিথস্ক্রিয়া সম্প্রসারণ এবং আভিযানিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অংশ হিসেবে এই মহড়া পরিচালিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
উভয় দেশের কর্মকর্তারা বলেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে যৌথ অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে মহড়াটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র আরব সাগরে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রবাহী নৌবহরের উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে এবং ইরানকে লক্ষ্য করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মহড়া শেষ হওয়ার আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। আইআরএনএ জানায়, বৈঠকে দুই দেশের স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নে তেহরানের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদেমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়ও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইরান জাতিসংঘকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন করলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ইরানের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এক চিঠিতে এ সতর্কবার্তা দেন।
চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ইরান নতুন চুক্তিতে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপসহ যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে।
ইরাভানি তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, এ ধরনের যুদ্ধংদেহী বক্তব্য সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকি বাড়ায়, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপর্যয়কর এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি গুরুতর হুমকি।
অন্যদেশ সব খবর














