টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই : টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী
সিভয়েস২৪ ডেস্ক
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, দেশের মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে এবং বেসরকারি অপারেটরগুলোর সেবামূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে টেলিটককে সরকারের নিয়ন্ত্রণেই রাখা প্রয়োজন।
রবিবার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইয়াসমিনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘টেলিটক বাজারে না থাকলে বেসরকারি অপারেটরগুলো ইচ্ছেমতো সেবার মূল্য বাড়াতে পারে। তাই টেলিটককে আমাদের বাজারে রাখতেই হবে, সরকারের কাছেই রাখতেই হবে।’
তিনি জানান, টেলিটকের সেবার মান উন্নত করতে আরও টাওয়ার স্থাপন প্রয়োজন। এজন্য সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকেও অর্থায়ন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
একই অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদি ইন্টারনেট প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত ডেটা কেটে নেওয়ার বিষয়টি সরকারও উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, অপারেটরগুলো তাদের ব্যবসায়িক নীতির কথা বলে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেছে। তবে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার তাদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে। একইভাবে কলড্রপ সমস্যার বিষয়েও অপারেটরদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার অভিযোগ করেন, জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা প্রণয়নের মতো নিয়মিত কাজকে ‘গবেষণা’ হিসেবে দেখিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কিছু কর্মকর্তাকে আলাদা সম্মানী দেওয়া হয়েছে।
এর জবাবে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে এবং পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য মো. মুক্তার আলীকে মন্ত্রী জানান, ডিজিটাল-সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ১ লাখ ৯ হাজার ৪টি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস ও জেলা আদালতসহ ৫৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সব খবর















