Cvoice24.com

কাস্টমস নিলামের ধীরগতি; স্থান সংকট বন্দরে

প্রকাশিত: ১০:২৫, ৩ জানুয়ারি ২০২১
কাস্টমস নিলামের ধীরগতি; স্থান সংকট বন্দরে

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামযোগ্য কনটেইনারের সংখ্যা নিয়ম করে প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিগত এক যুগ ধরে যে পরিমাণ পণ্য বন্দরে নিলাম না হয়ে পড়েছিলো, এ বছর করোনার কারণে নিলামের কাজ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত থাকায় সে জট আরো বেড়েছে। ফলে বন্দরের জায়গা দখল করে পড়ে আছে আমদানি হওয়া কনটেইনার, যা বন্দরের স্থান সংকট সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে যথাসময়ের রাজস্ব থেকে।

বলা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সূতিকাগার। বর্তমানে এ বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে সন্তোষজনক। বন্দরকেন্দ্রিক জরিপ প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট অনুযায়ী, বিশ্বের ১০০ দ্রুততম বন্দরের তালিকায় চট্টগ্রামের অবস্থান ৫৮তম। এতো জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার রাখার জায়গার সংকট হচ্ছে। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার নিলামযোগ্য কনটেইনার বন্দরে পড়ে আছে। যা বেশিরভাগ ব্যবহার অনুপযোগী ও ধ্বংসযোগ্য। যার ফলে সরকার হারাচ্ছে শত শত কোটি টাকা রাজস্ব।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের মে পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার পণ্য আটকা পড়ে আছে। নিলামে তোলা হলে এসব পণ্য থেকে সরকার ১ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা রাজস্ব পেত। তবে ২০০৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বন্দরে পড়ে আছে মোট ৪০ ফুটের ২ হাজার ৫৭০টি কনটেইনার, ২০ ফুটের ২ হাজার ১১০টি কনটেইনার, ৭ হাজার ২৫২ টিইউই’স ও ৪ হাজার ৬৮০টি বক্সে বিভিন্ন রকমের পণ্য জমেছিলো। এরমধ্যে গত এ যুগে ৪০ ফুটের ১ হাজার ৭৭৬টি কনটেইনার, ২০ ফুটের ১ হাজার ৫৩৪টি কনটেইনার, ৫ হাজার ৮৮ টিইউই’স ও ৩ হাজার ৩১০টি বক্সে বিভিন্ন রকমের পণ্য জমেছিলো। তবে করোনার কারণে ২০২০ সালে ৪০ ফুটের ৭৯৪টি কনটেইনার, ২০ ফুটের ৫৭৬টি কনটেইনার, ২ হাজার ২১৬৪ টিইউই’স ও ১ হাজার ৩৭০টি বক্স আটকে আছে নিলামের অপেক্ষায়। 

কাস্টম সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নিলামযোগ্য কনটেইনারের মধ্যে খাদ্যদ্রব্য, প্লাস্টিক পণ্য, প্রসাধনী, গাড়ি, রাসায়নিক পণ্য, খেলনাসামগ্রী, গ্লাস, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, ফ্যাব্রিক্সসহ গার্মেন্টসের বিভিন্ন এক্সেসরিজ, রাবার পণ্য, পেপারস, ফার্নিচার ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ পণ্য মেয়াদ শেষ হয়েছে ও পণ্য পচে যাওয়ার দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক সিভয়েসকে বলেন, ‘কনটেইনার নিলাম করার দায়িত্ব কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। বন্দরে নিলামযোগ্য কনটেইনারের হিসাব কাস্টমসকে দেয়া হয়। কিন্তু কাস্টমস নিয়মিত নিলাম কার্যক্রম না করার কারণে বহু পণ্য বন্দরে পড়ে আছে। এ কনটেইনারগুলো জায়গা দখল করে থাকার কারণে বন্দরে পণ্য সংরক্ষণের কাজে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এজন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ সিভেয়সকে বলেন, ‘বন্দরে আসা পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে খালাস নেয়া না হলে নিলামে তোলা হয়। এ ক্ষেত্রে বন্দর কর্তৃপক্ষের তেমন কিছুই করার থাকে না। কারণ বন্দরের পক্ষ থেকে নিলামযোগ্য পণ্যের তালিকা কাস্টমসের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরবর্তী সব প্রক্রিয়া করে থাকে কাস্টমস। তবে আইনগত জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা ও লোকবল সংকটের কারণে কাস্টমস সহজেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে না। নিলামযোগ্য পণ্য বন্দরের স্থান দখল করে থাকে। এ কারণে অনেক সময় বন্দরের ভেতরে কনটেইনার জট দেখা দেয়। আমরা চাই বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিলাম আরও জোরদার করুক। এতে বন্দরে বাড়তি পণ্যের চাপ কমবে।’

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ফখরুল আলম সিভয়েসকে বলেন, ‘নিলামযোগ্য কনটেইনার নিষ্পত্তিতে কাস্টমস কাজ করছে। প্রতি শনিবার নিলাম শাখার কর্মকর্তা ছাড়াও অন্য শাখার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ইনভেন্ট্রি করানো হচ্ছে। এরপর তা নিলামে তোলা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে সম্প্রতি কাস্টমস ই-অকশন চালু করেছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে অকশন শেষ করা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে বাজারে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় নিলামে অংশগ্রহণকারী হ্রাস পেয়েছে। যারা অংশ নিচ্ছেন তারাও কম দাম হাঁকছেন, এটা বড় একটি সমস্যা।’

উল্লেখ্য, ২০০০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২০ বছর ধরে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য বন্দরে পড়েছিলো। গত ১৫ জুলাই বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের ৩ নম্বর শেডে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি গাড়ি সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ঘটনার পর রাতভর বন্দর চেয়ারম্যান, নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন। এরই মধ্যে রাত ১০টায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরতে গিয়ে বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তারা পড়ে যান। একজন কর্মকর্তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপজ্জনক কঠিন পদার্থ, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, ব্লাঙ্ককিট, ডাইথোনাইট এবং সালফক্সিলেট, হাইড্রোক্লোরাইড, নাইট্রো গ্লু সলিউশন, কস্টিক সোডা, ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান, বেভারেজ কনসেন্ট্রেট এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন রাসায়নিক। পরে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরামর্শে ৪৯ হাজার কেজি ধ্বংসযোগ্য পণ্য পাঠানো হয় সুনামগঞ্জের সিমেন্ট কারখানায়।

-সিভয়েস/এসবি

শুভ্রজিৎ বড়ুয়া

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়