অক্টোবরে উদ্বোধন জিইসি ফুটওভার ব্রিজ, বাড়বে সড়ক নিরাপত্তা: মেয়র
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
চলতি অক্টোবর মাসের ২৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে জিইসি মোড়ের নির্মাণাধীন ফুটওভার ব্রিজ সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, 'পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও সরকারি গ্যাজেটে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করেই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে।'
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর জিইসি মোড়ে নির্মাণাধীন ফুটওভার ব্রিজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মেয়র।
মেয়র বলেন, 'প্রকৌশল ও স্থাপত্যের কারিগরি বিষয় না বুঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও সরকারি গ্যাজেটে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করেই জিইসি মোড়ের ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'ফুটওভার ব্রিজটির নির্মাণকাজ অত্যন্ত কঠিন ও কারিগরি দিক থেকে চ্যালেঞ্জিং ছিল। এর নকশা ও নির্মাণকাজে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রায় ছয় থেকে সাতজন প্রকৌশলী এবং তিন থেকে চারজন স্থপতি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। চারদিক থেকে পথচারীরা যাতে ব্রিজে উঠতে ও নামতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এর নকশা করা হয়েছে।'
ফুটওভার ব্রিজের প্রস্থ নিয়ে সমালোচনার জবাবে মেয়র বলেন, 'এটি মানুষের হাঁটা ও নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে পণ্য বিক্রি করার জন্য কিংবা রাতে ঘুমানোর জন্য জায়গা তৈরি করা হয়নি। ফুটওভার ব্রিজের ব্যবহার কী উদ্দেশ্যে হবে, সেটি আগে বুঝতে হবে।'
তিনি বলেন, 'জিইসি মোড়ের আশপাশে বেশ কয়েকটি স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, রোগী, স্বজন, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকায় চলাচল করেন। তাদের নিরাপদ সড়ক পারাপার নিশ্চিত করতে এই ফুটওভার ব্রিজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে স্কুল ও হাসপাতালকেন্দ্রিক মানুষের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও সরকারি গ্যাজেটের নির্ধারিত মানের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, 'অ্যাক্সেসেবল পাবলিক এক্সেসওয়ে, ফুটপাত, করিডোর ও ব্রিজের ক্ষেত্রে ন্যূনতম প্রস্থ ১ দশমিক ২ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ জিইসি মোড়ের ফুটওভার ব্রিজে বিভিন্ন স্থানে ১ দশমিক ৩ মিটার, ক্লিয়ার স্পেস ১ দশমিক ৪ মিটার এবং কোথাও ১ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত প্রস্থ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত ন্যূনতম প্রস্থের চেয়ে বেশি জায়গা রাখা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'ব্রিজ নির্মাণের সময় ড্রেন ও ফুটপাত সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। নগরীর বাস্তবতা, পথচারীদের চলাচল ও বিদ্যমান অবকাঠামো বিবেচনা করেই এর নকশা ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বিশেষজ্ঞের এ বিষয়ে সংশয় থাকলে সরাসরি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছি।'
মেয়র বলেন, 'নগরীতে যেকোনো ভালো উদ্যোগ নেওয়া হলেই একটি মহল অনর্থক সমালোচনা শুরু করে। ভিউ ব্যবসার উদ্দেশ্যে যারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, তাদের আগে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড, সরকারি গ্যাজেট ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড সম্পর্কে জানতে হবে। “আমরা সমালোচনাকে স্বাগত জানাই, তবে তা অবশ্যই তথ্যভিত্তিক ও গঠনমূলক হতে হবে।'
তিনি বলেন, 'পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত ও যানজট কমাতে নগরীতে ফুটওভার ব্রিজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে চলতি মাসের ২৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে জিইসি মোড়ের ফুটওভার ব্রিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।'
পরে মেয়র জিইসি মোড় থেকে গোলপাহাড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। এ সময় অবৈধ স্থাপনা ও পথচারী চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের তৎপর থাকার নির্দেশ দেন মেয়র।
অভিযানকালে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জোবাইদা আক্তার জিইসি, গোলপাহাড় মোড় এবং শিল্পকলা একাডেমি থেকে দামপাড়া পর্যন্ত ফুটপাতে রাখা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় নগদ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এ সময় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম, জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর















