ফ্যাসিস্ট আমলের অধঃপতন কাটিয়ে চামড়াশিল্প জাগাতে চায় সরকার: বিসিক চেয়ারম্যান
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের চামড়াশিল্পের অধঃপতন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সরকার চামড়াশিল্পকে জাগিয়ে তুলতে চায়। এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিসিক। শিল্পটির সমস্যা সমাধানে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে, আর সময় নষ্ট করতে চায় না সংস্থাটি।‘
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিসিক আয়োজিত জব অ্যান্ড ক্যারিয়ার ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ একসময় কৃষিনির্ভর দেশ ছিল। ঘরে ঘরে ছিল কুটির শিল্প। ১৯৫৭ সালে ইপসিক প্রতিষ্ঠিত হয়, যা স্বাধীনতার পর বিসিকে রূপ নেয়। বর্তমানে সারা দেশে বিসিকের ৮৪টি শিল্পনগরী রয়েছে। এসব শিল্পনগরীতে উদ্যোক্তাদের কারখানা স্থাপনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি এবং নারী উদ্যোক্তাদের ৫ শতাংশ ও পুরুষ উদ্যোক্তাদের ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার কার্যক্রমও পরিচালনা করছে বিসিক।‘
তিনি বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের সঙ্গে গ্রাহকদের সংযোগ তৈরি করতে প্রতি মাসে মেলার আয়োজন করছে বিসিক। আগামী ডিসেম্বরে বড় পরিসরে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিদাতাদের মধ্যে সংযোগ তৈরির লক্ষ্যেই জব অ্যান্ড ক্যারিয়ার ফেয়ারের আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান অনেক তরুণকে তাৎক্ষণিক নিয়োগপত্র দিয়েছে। চাকরির আশায় অনেকে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।‘
শিল্পের বিকাশে দেশীয় কাঁচামাল ও দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ একসময় সস্তা শ্রম ও গ্যাসের সুবিধা পেত। বর্তমানে গ্যাসের সংকট রয়েছে। তাই নিজস্ব কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন এবং মূল্য সংযোজন বাড়াতে হবে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। বিসিক দেশীয় কাঁচামালনির্ভর শিল্পের বিকাশে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার চামড়া, প্লাস্টিক ও মুদ্রণ শিল্পের কারখানাগুলো বিসিকের শিল্প পার্কে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরকে আরও বাসযোগ্য ও যানজটমুক্ত করতে বিভিন্ন কারখানা বিসিক শিল্পনগরীতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘দেশের বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্য নিয়ে বিসিক জব ফেয়ারের আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে বিসিকও কাজ করছে। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।’
চট্টগ্রাম নগরের যানজট ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে একটি নান্দনিক শহরকে জলাবদ্ধতার শহরে পরিণত করা হয়েছে। হাসপাতালের পার্কিংয়ের জায়গায় বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। আগ্রাবাদে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কও হকারদের দখলে চলে গেছে। সড়কের দুই পাশে গাড়ি রাখায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যানজটের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আসতে সমস্যা হচ্ছে এবং অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগ্রাবাদ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।‘
তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করার কথা জানিয়ে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা যে ভালো কাজ করতে পারেন, বিসিক চেয়ারম্যান তার প্রমাণ। বিসিকের প্রশিক্ষণ ও মেলার মতো কার্যক্রমে চিটাগং চেম্বারকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে যৌথভাবে কাজ করলে এ শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করে। দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাড়তে থাকা বেকারত্ব মোকাবিলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকাবো।’
চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎমিলা ফরিদ বলেন, ‘জব ফেয়ার শিক্ষা ও ব্যবসার মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করছে। মেলায় তাৎক্ষণিকভাবে অনেকে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এ আয়োজনের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে জানতে পারছেন।‘
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তথ্যপ্রযুক্তির বিকল্প নেই। মেলা থেকে পাওয়া মতামত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছানো গেলে পাঠ্যসূচি যুগোপযোগী করা এবং দক্ষতার ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।‘
বিসিক চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘বিসিকের মূল কাজ উদ্যোক্তা তৈরি করা। এ জব ফেয়ারে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা উদ্যোক্তাদের সাফল্য সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং নিজেরাও উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা পাবেন। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিসিকের পরিচালক (প্রশাসন) মুহম্মদ কামরুজ্জামান এবং উপমহাব্যবস্থাপক এসএম আলকাদেরী।
চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর














