আদালতে আত্মসমর্পণ, জামিন পেলেন না বগা
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা চাঁদাবাজির একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপির উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, চাঁদাবাজির একটি মামলায় ওয়াকিল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
ওয়াকিল নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩টি মামলা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, ওয়াকিল একাধিক কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
নগর ভবনে অভিযান, পাওয়া যায়নি ওয়াকিলকে
একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় ওয়াকিলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল পুলিশ। সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর মহানগরের টাইগারপাস এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে তার অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযান চালান পুলিশ সদস্যরা। তবে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি।
পরদিন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ওয়াকিল নগর ভবনে ছিলেন না; তার দুই ভাই মেয়রের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।
এ সময় মেয়র ওয়াকিলকে সন্ত্রাসী নয়, ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং খুলশী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। ওই দিন আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে নগর পুলিশের সিটিএসবি শাখায় বদলি করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম থেকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়।
শিক্ষককে মারধরের মামলায় আসামি
গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগে খুলশী থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় ওয়াকিলকে আসামি করা হয়।
মামলা নেওয়ায় ওসি আবদুর রহিমকে ‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে তাকে পেটানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ওই পুলিশ কর্মকর্তা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ওয়াকিলকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এতে ওসি আবদুর রহিমসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনায় ওয়াকিলকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।
পুলিশের বিরুদ্ধে ওয়াকিলের বাবার মামলা
পুলিশের ওই অভিযানের পর ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ওয়াকিলের বাবা। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে পুলিশ তাদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এতে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধ ও প্লট দখলের অভিযোগ
গত ২৯ সেপ্টেম্বর নগরের ওয়্যারলেস কলোনিতে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষ—সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টারের বিরোধে হৃদয় নামের এক তরুণ নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও ওয়াকিলকে আসামি করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর প্লট দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে ওয়াকিলসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে খুলশী থানায় আরেকটি মামলা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
‘চট্টগ্রাম খবর’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ মুহাম্মদ আরিফ মামলাটি করেন। তিনি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আফলাতুনের ছেলে।
মামলার এজাহারে পাঁচটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন বাদী। এর মধ্যে ১১ ফেব্রুয়ারি ও ২৫ এপ্রিল তাকে অপহরণ করে ওয়াকিলের আস্তানায় নিয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে।
চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর













