Cvoice24.com

কক্সবাজারের উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬

উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১৪:১৫, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী বিচসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ১০টি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। সর্বশেষ উদ্ধার করা চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। তাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। রিসোর্টে আর কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা জানতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। সকাল ৮টার দিকে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। স্টেশন থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের ঘটনাস্থলে একাধিক ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টটিতে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানান, প্রথমে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আরও চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ উদ্ধার করা চারজনের মরদেহ রিসোর্টের বাথরুম থেকে পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে একজন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।

অগ্নিকাণ্ডের পর ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপর একজন পড়ে গিয়ে আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে পাঠানো ছয়জনের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্ট গার্ড, এসআরবি ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি তদারকি করছেন।

ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য আরও জানান, নতুন এই রিসোর্টটির জন্য ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ছিল না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ৩০ জন অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন বের হতে পেরেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিসোর্টে মোট কতজন ছিলেন এবং আর কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা জানতে উদ্ধার অভিযান চলছে।

স্থানীয়দের ধারণা, রিসোর্টের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এ তথ্যও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।