আজ মহাসপ্তমী, ঢাকের বাদ্য আর শঙ্খধ্বনিতে মুখর পূজামণ্ডপ
নিউজ ডেস্ক, সিভয়েস২৪
চণ্ডীপাঠ, বোধন ও দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ উৎসবের আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমী। বাংলা পঞ্জিকা ও তিথির বিশেষ বিন্যাসে এ বছর সপ্তমী তিথি ১৭ ও ১৮ অক্টোবর—শনি ও রবিবার দুই দিনজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে।
মহাসপ্তমী উপলক্ষে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে চলছে নবপত্রিকা স্নান, স্থাপন ও দেবীর আরাধনা। পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও আরতির মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে পরিবার, সমাজ ও দেশবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করছেন।
মহাসপ্তমীর অন্যতম প্রধান আচার নবপত্রিকা প্রবেশ ও পূজা। প্রচলিত ভাষায় নবপত্রিকা ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত। শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী কলাগাছ, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধানগাছ—এই নয়টি উদ্ভিদ একত্র করে নবপত্রিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে নির্ধারিত পূজাবিধি অনুসারে স্নান করিয়ে তা পূজামণ্ডপে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
নবপত্রিকা পূজার মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও উদ্ভিদজগতের সঙ্গে দেবী আরাধনার যোগসূত্র প্রতিফলিত হয়। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ পূজায় প্রকৃতির সমৃদ্ধি, শস্যের প্রাচুর্য ও জগতের কল্যাণ কামনা করা হয়।
নবপত্রিকা স্থাপনের পর পূজাবিধি অনুসারে দর্পণে প্রতিফলিত দেবীপ্রতিমার উদ্দেশ্যে মহাস্নানের আচার সম্পন্ন করা হয়। এরপর মন্ত্রপাঠ, পুষ্পাঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও অন্যান্য শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সপ্তমীবিহিত পূজা।
শাস্ত্রীয় প্রথা ও প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত ব্যাখ্যায় ঘোড়ায় আগমনকে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
অন্যদিকে, নৌকায় গমনকে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও শস্যহানির আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তবে এগুলো ধর্মীয় পঞ্জিকাভিত্তিক প্রচলিত বিশ্বাস; নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।
আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা।
চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপগুলো বর্ণিল সাজে সেজে উঠেছে। দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা, আলোকসজ্জা এবং ঢাকের বাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ।
মহাসপ্তমী উপলক্ষে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী ভক্ত ও দর্শনার্থীরা পূজামণ্ডপে সমবেত হচ্ছেন। দিনভর পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে চলবে ধর্মীয় আয়োজন। সন্ধ্যায় ধূপ-প্রদীপ, ঢাক, শঙ্খ ও ঘণ্টার ধ্বনিতে অনুষ্ঠিত হবে আরতি।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২৫৯টি মণ্ডপ ও মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দেবীর আরাধনা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের আনন্দে মহাসপ্তমীকে ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সবার মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করছেন ভক্তরা।
ধর্ম সব খবর















