Cvoice24.com

স্বর্ণালংকার আত্মসাতে গ্রেপ্তার নারী
চট্টগ্রামে চোরাই ১৪ মোটরসাইকেল উদ্ধার মীরসরাই-নোয়াখালীতে

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৫:৪০, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামে চোরাই ১৪ মোটরসাইকেল উদ্ধার মীরসরাই-নোয়াখালীতে

চট্টগ্রাম মহানগরের কোতোয়ালী ও চকবাজার থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১৪টি চোরাই মোটরসাইকেল এবং প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বর্ণালংকার আত্মসাতের মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান প্রাং।

পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেল চোর চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে কোতোয়ালী থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলগুলো উদ্ধার করে। অন্যদিকে, চকবাজার থানা পুলিশ স্বর্ণালংকার আত্মসাতের মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় কিছু স্বর্ণালংকার।

উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, গত ১২ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি দল কাঠের বাংলো এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য মো. সুমনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজন আসামিসহ ছয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১৪ অক্টোবর কোতোয়ালী থানায় দণ্ডবিধির ৪১১ ধারায় মামলা করা হয়।

পরে গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ অক্টোবর আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে চোর চক্রের আরেক সদস্য মো. ইমরান হোসেনকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

ইমরানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপাচি আরটিআর ১৫০ সিসি, হিরো হোন্ডা হর্নেট ১৫০ সিসি, হিরো হোন্ডা হাঙ্ক ১৫০ সিসি ও জিক্সার মনোটন ১৫০ সিসির একটি করে মোটরসাইকেল।

এ ছাড়া নোয়াখালীর চরজব্বর থানা এলাকা থেকে কোতোয়ালী থানার একটি চুরি মামলার গ্ল্যামার ১১৫ সিসির একটি মোটরসাইকেল এবং চট্টগ্রামের মীরসরাই থানা এলাকা থেকে বাজাজ পালসার ১৫০ সিসির আরেকটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তথ্য মতে, এসব অভিযানে মোট ১৪টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট দায়ের করা একটি চুরির মামলাও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ আরো জানায়, গত ৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লাইলাতুল নুসরাত নিপা (৩৬) নামে এক নারী দাওয়াতে যাওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তির স্ত্রী ও মায়ের কাছ থেকে মোট ৮ ভরি ৮ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তিনি সেগুলো বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ১৮ অক্টোবর চকবাজার থানায় দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় মামলা হয়। ওই দিনই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানার বাগঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিপাকে গ্রেপ্তার করে চকবাজার থানা পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিপা জানান, আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকারগুলো তিনি কোতোয়ালী থানার দিদার মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত নোভা জুয়েলার্সের ম্যানেজার শুভ মজুমদারের (৩৬) কাছে বিক্রি করেছেন।

পরে গ্রেপ্তার নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। দোকানটির ম্যানেজার পুলিশকে জানান, নিপা ও তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। সেই সূত্রে পুরোনো ও নতুন স্বর্ণ কেনাবেচা এবং পরিবর্তনসংক্রান্ত ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ হিসেবে তিনি অলংকারগুলো কিনেছিলেন। পরে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সেগুলো গলিয়ে বিভিন্ন ধরনের অলংকার তৈরি করা হয়।

পুলিশ জানায়, দোকানের ম্যানেজারের উপস্থাপন ও গ্রেপ্তার নারীর শনাক্তের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মোট ৫ ভরি ১ রতি ১ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অলংকারের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণের আংটি, হাতের বালা, গলার চেইন ও কানের অলংকার। এগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ টাকার বেশি।

আত্মসাৎ হওয়া অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।