চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘৩য় সিইউএসডি জাতীয় বিতর্ক উৎসব’ অনুষ্ঠিত
চবি প্রতিনিধি
মুক্তচিন্তা, যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রাণবন্ত পরিবেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে চিটাগাং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ডিবেট (সিইউএসডি)-এর দুই দিনব্যাপী বহুল প্রতীক্ষিত ‘৩য় সিইউএসডি জাতীয় বিতর্ক উৎসব–২০২৬’।
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারী) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ অডিটোরিয়ামে সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ইপসা (ইউর পাওয়ার ইন সোস্যাল অ্যাকশন) এর নিবেদনে এবং জার্মান ফেডারেল ফরেইন অফিসের অর্থায়নে, সেইভ দ্যা চিলড্রেনের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এ জাতীয় আয়োজন সম্পন্ন হয়।
'ভাঙো রুদ্ধ চিন্তার বেষ্টনী' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ উৎসবে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তঃস্কুল, কলেজ পর্যায়ের এশিয়ান পার্লামেন্টারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিভাবান বিতার্কিক ও অভিজ্ঞ বিচারকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এই বিতর্ক।
এতে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিভাগে ২৪টি এবং আন্তঃস্কুল, কলেজ বিভাগে ১৮টি দল অংশ নেয়। গতকাল শুক্রবার প্রথম দিনে টানা চারটি ট্যাব রাউন্ড শেষে কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি পর্বে তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ, শাণিত যুক্তি ও সাবলীল উপস্থাপনা তুলে ধরেন বিতার্কিকরা।
আজ প্রোগ্রামের সমাপনী দিনে চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তাদের পরিণত বিতর্কশৈলী ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতার স্বাক্ষর রাখে। আন্তঃস্কুল পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ড. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আন্তঃকলেজ পর্যায়ে চট্টগ্রাম কলেজ এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি শিরোপা জিতে নেয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। তিনি শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা বিকাশে বিতর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফুয়াদ হাসান। অনুষ্ঠানে অতিথি ও উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিইউএসডির মডারেটর অধ্যাপক ড. তুনাজ্জিনা সুলতানা। বিচারক প্যানেলে ছিলেন মো. মাহবুবুর রহমান ও সাইফুদ্দিন মুন্না। এছাড়া ইপসার প্রকল্প কর্মকর্তা এস.এম. শাহরিয়ার আলমসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবের অংশীদার হিসেবে ছিল এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি অব চিটাগাং (এমএইউসি), বৃদ্ধি, বিজক্লাব ও এইমস এডুকেশন। লিগ্যাল পার্টনার হিসেবে ছিল ট্যাক্স সলিসিটর এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠান রিফ্রেশমেন্ট ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করে।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যুক্তিবাদ, মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা গড়ে ওঠে বলে মনে করেন আয়োজকরা।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৭ বছর ধরে যুক্তি, মনন ও প্রগতিশীল চিন্তার বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে সিইউএসডি। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের জাতীয় আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে সচেতন, বিশ্লেষণী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ক্যাম্পাস সব খবর















