Cvoice24.com

ফটিকছড়িতে মাঘের মেলায় রাস্তাজুড়ে মুলা আর মুলা

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ি
১২:০৮, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ফটিকছড়িতে মাঘের মেলায় রাস্তাজুড়ে মুলা আর মুলা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হযরত গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর বার্ষিক ওরশ শরীফ মহান ১০ মাঘ উপলক্ষে শুরু হওয়া মাঘের মেলাকে ঘিরে চোখে পড়ছে ভিন্ন এক চিত্র। মেলায় সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি কেড়েছে বিশাল আকৃতির জাপানি মুলা, যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘ভাণ্ডারী মুলা’ নামে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নাজিরহাট থেকে শুরু করে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ এলাকা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারি সারি মুলার হাট বসেছে। ক্রেতা-বিক্রেতার দরকষাকষিতে মুখর চারপাশ। এককথায় জমজমাট চলছে জাপানি মুলার বেচাকেনা।

জানা গেছে, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের ওরশকে কেন্দ্র করেই এ অঞ্চলে বিশেষভাবে মুলার চাষ করা হয়। মাইজভাণ্ডার শরীফ এলাকায় মুলা একটি জনপ্রিয় সবজি। পাশাপাশি হযরত গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর দরবারে মাংস-মুলা তবরুক হিসেবে বিতরণের বিশেষ প্রচলন থাকায় ভক্তরা নিয়ত করে এই মুলা সঙ্গে নিয়ে যান।

প্রতিবছরের মতো এ বছরও মাঘের মেলায় এসেছে বিপুল পরিমাণ জাপানি মুলা। মেলায় আগত ভক্তদের অনেককেই হাতে বা কাঁধে করে বড় বড় মুলা বহন করতে দেখা গেছে। একটি মুলার দৈর্ঘ্য দুই থেকে তিন হাত পর্যন্ত, ওজন ৩ থেকে ১৫ কেজি। আকারভেদে একটির দাম ১০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। ভারী ও বিশাল আকৃতির কারণে অনেকের পক্ষে মুলা হাতে সামলানো কষ্টকর হলেও কাঁধে তুলে নিতে দেখা যায় অনেকে।

স্থানীয় ও আশপাশের এলাকা থেকে চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত বড় আকারের এই মুলা—যা স্থানীয়ভাবে জাপানি মুলা বা ভাণ্ডারী মুলা নামে পরিচিত—মেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত আশেক ভক্তদের কাছে এ অঞ্চলের মুলার আলাদা কদর রয়েছে। ফলে এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে।

মুলা কিনতে আসা মোহাম্মদ জনি বলেন, ‘প্রতি বছর ওরশ শরীফে আসলে মুলা নিয়ে যাই। এই মুলা খেতে অনেক ভালো। বাড়ির স্বজনরাও বলে, মাইজভাণ্ডারের মুলা নিয়ে আসতে।’

আরেক ক্রেতা মোহাম্মদ আলি হোসেন বলেন, ‘মাইজভাণ্ডার শরীফের মুলা হিসেবে প্রতি বছরই ওরশে এলে মুলা নিই। নিয়ত করে আমরা এই মুলা খাই এবং আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিলি করি।’

মুলা বিক্রেতা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘সারা বছর আমরা ১০ মাঘের মেলার অপেক্ষায় থাকি। এই মেলায় মুলা ভালো বিক্রি হয়। এ বছর গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ মুলা নিয়ে এসেছি।’

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ফটিকছড়িতে ৫৫০ হেক্টর জমিতে মুলার চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে ১০ হাজার ৮৩ মেট্রিক টন মুলা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক জানান, ‘এ বছর মুলার উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফটিকছড়িতে বিভিন্ন জাতের মুলার চাষ হয়। এর মধ্যে ‘তাসাকিসান’ জাতটি জাপানি মুলা হিসেবে পরিচিত। মাইজভাণ্ডারের আশেক ভক্তদের কাছে এই মুলার চাহিদা ও কদর সবচেয়ে বেশি।’

হযরত গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর বার্ষিক ওরশ শরীফকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার এলাকাজুড়ে বসেছে সপ্তাহব্যাপী গ্রামীণ ও লোকজ পণ্যের মেলা, যা ‘মাঘের মেলা’ নামে পরিচিত। প্রতিবছরের মতো এবারও এই মেলায় জাপানি মুলা অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

এ লোকজ মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। রকমারি খাবার, পোশাক, খেলনা, প্রসাধনী সামগ্রীসহ গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় বাঁশ, বেত, মাটি ও লোহার তৈরি নানা পণ্যের পসরা সাজানো হয়। এলাকার নারী ও শিশুদের কাছেও এই মেলা বিশেষ আকর্ষণের, কারণ এখান থেকেই তারা ঘরের প্রয়োজনীয় অনেক সামগ্রী কিনে থাকেন।