Cvoice24.com

চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিয়ে ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৪:০৬, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিয়ে ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন

চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান অচলাবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম)। দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার এই বন্দরের কার্যক্রমে বিঘ্ন রপ্তানি খাতকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর আস্থা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ বার্তা জানিয়েছে ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ।

ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ বলেছে, রপ্তানি কার্যক্রম সুরক্ষা, বিদেশি চাহিদার ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষা এবং ইউরোপসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে সুনাম ধরে রাখতে পূর্বানুমেয়, নিরবচ্ছিন্ন ও দক্ষ বন্দর পরিচালনা অত্যন্ত জরুরি।

সংগঠনটি উল্লেখ করে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি সম্প্রতি ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বন্দর অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে রপ্তানি পারফরম্যান্স মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বন্দরের আধুনিকায়ন উদ্যোগ জোরদারের তাগিদ দিয়েছে, যাতে দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ ব্যবসা সম্প্রসারণ ও দেশের বাণিজ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি স্থিতিশীল, দক্ষ ও ভবিষ্যৎ উপযোগী বন্দর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতেও তারা প্রস্তুত।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি পরিচালনা করে এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রধান প্রবেশদ্বার। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন বন্দর দিয়ে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ রপ্তানি কনটেইনার চলাচল করে। তবে সাম্প্রতিক কর্মবিরতির কারণে কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।

ইউরোচ্যাম সদস্য ও বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহকারী ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো এ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রপ্তানির সময়সূচি ভেঙে পড়ছে, ডেলিভারি বিলম্বিত হচ্ছে এবং অতিরিক্ত লজিস্টিক ব্যয় বাড়ছে।

সংগঠনটির হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ১৩ হাজার রপ্তানি কনটেইনারে থাকা আনুমানিক ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার পণ্য বন্দরের জেটি, বেসরকারি ডিপো ও জাহাজে আটকে আছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর ৮ লাখ ৩১ হাজারের বেশি রপ্তানি কনটেইনার পরিচালনা করেছে, যার মূল্য ছিল প্রায় ৪২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ আসে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই খাতের ওপর নির্ভর করেই বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে অবস্থান করছে।