রামগড়ে প্রধান শিক্ষক নেই ২৮ বিদ্যালয়ে
করিম শাহ, রামগড় প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৯টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ১১টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন, আর ১৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদে কোনো শিক্ষকই নেই। ফলে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি শুধু প্রশাসনিক জটিলতাই তৈরি করছে না, বরং বিদ্যালয়গুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমেও গভীর প্রভাব ফেলছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে নিজের পাঠদানের দায়িত্বের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনাও সামলাতে হচ্ছে তাদের। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষকরাও যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। পাশাপাশি কার্যকর নেতৃত্বের অভাবে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তারা তেমন কোনো বাড়তি সুবিধা পান না। অফিসের প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত সহকারী শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। তাদের মতে, একটি বিদ্যালয়ের প্রকৃত অভিভাবক হলেন প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক সংকট থাকায় শিক্ষার গুণগত মানও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রামগড় উপজেলা শিক্ষা অফিসের আওতায় ৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১৯টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন, ১১টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন এবং ১৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকের ৬৫টি পদও খালি রয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমিতির রামগড় উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার মান উন্নয়ন ও লক্ষ্য পূরণে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। সরকার যদি দ্রুত শূন্য পদ পূরণের ব্যবস্থা না নেয়, তবে এর প্রভাব শুধু শিক্ষার গুণগত মানের ওপরই পড়বে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন, তাদের জন্য উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হ্যাপি চাকমা বলেন, ‘প্রতিবছর অবসরজনিত কারণে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হচ্ছে। পদোন্নতি ও নিয়োগ বন্ধ থাকার পর থেকে এ সংকট বাড়ছে। আমরা এসব শূন্য পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এ ছাড়া শূন্য পদ থাকা বিদ্যালয়গুলোতে বাড়তি নজর রাখা হয়েছে।’
পাহাড় সব খবর















