Cvoice24.com

৮ বছরেও পূরণ হয়নি ৪১ পদ, সংকটে কর্ণফুলী সরকারি কলেজ

অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১৩:২৬, ১৬ জুলাই ২০২৬
৮ বছরেও পূরণ হয়নি ৪১ পদ, সংকটে কর্ণফুলী সরকারি কলেজ

জাতীয়করণের আট বছর পার হলেও রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনুমোদিত ৪১টি পদ আজও পূরণ হয়নি। ফলে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তীব্র শিক্ষক ও জনবল সংকটে ধুঁকছে। সীমিতসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষকে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কলেজটিতে সরকারিভাবে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ১২ জন শিক্ষক, ১ জন লাইব্রেরিয়ান, ১ জন শরীরচর্চা শিক্ষক এবং ২ জন অফিস সহায়ক। বাকি পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিজস্ব অর্থায়নে কয়েকজন খণ্ডকালীন শিক্ষক ও অফিস সহায়ক নিয়োগ দিয়ে কোনোমতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের বেতন-ভাতা বহন করাও প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও জানা যায়, ২০১৮ সালে সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তে সারা দেশের ৩০০টি কলেজ জাতীয়করণ করা হয়। এর মধ্যে কর্ণফুলী ডিগ্রি কলেজও ছিল। জাতীয়করণের সময় কলেজটির জন্য ৪১টি পদ আত্তীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও দীর্ঘ আট বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও কর্মচারী ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দীন বলেন, কলেজটি সরকারি হওয়ার পর জনবল সংকট দূর হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু ৪১টি পদের নিয়োগ এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় দাপ্তরিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, খণ্ডকালীন শিক্ষক ও অফিস সহায়কদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে, যার পুরোটা বহন করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি পাহাড়ি প্রত্যন্ত এলাকায় মানসম্মত শিক্ষক পাওয়া কঠিন হওয়ায় বাইরে থেকে শিক্ষক এনে ক্লাস পরিচালনা করতে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, অধিকাংশ শিক্ষক ও কর্মচারী পিআরএল কিংবা অবসরে চলে যাওয়ায় জনবল সংকট আরও প্রকট হয়েছে। বর্তমানে সরকারিভাবে কর্মরত ১২ জন শিক্ষকের মধ্যে দুজন আগামী আগস্টে অবসরে যাবেন। এতে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম ভরসা কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত ৪১টি শূন্য পদে নিয়োগ না হলে এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা আরও বড় সংকটে পড়বে বলে তাদের আশঙ্কা।