Cvoice24.com

আমদানি বেড়েও রমজানের পণ্যে দাম বাড়তির চাপ

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৯:৫০, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আমদানি বেড়েও রমজানের পণ্যে দাম বাড়তির চাপ

রমজান ঘনিয়ে আসতেই সরগরম হয়ে উঠছে নিত্যপণ্যের বাজার। সরকারি হিসাব বলছে, চাহিদার তুলনায় আমদানি বেড়েছে, মজুতেও ঘাটতি নেই। তবু খেজুরের দাম ভোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আমদানি বাড়লেও বাজারে কেন মিলছে না তার সুফল- এই প্রশ্ন এখন ক্রেতাদের মুখে মুখে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, গত চার মাসে ২ লাখ ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ, ৩ লাখ ৭০ হাজার টন চিনি, ৪৭ হাজার টন খেজুর, ২ লাখ ৫ হাজার টন মসুর ডাল, প্রায় ৪ লাখ টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং ১৪ লাখ টন গম আমদানি হয়েছে। 

কর্মকর্তারা বলছেন, আগের বছরের তুলনায় অনেক পণ্য প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণে আমদানি হয়েছে। এমনকি ছোলা চাহিদার তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি আমদানি হয়েছে। তবে আমদানি বাড়লেও বাজারে স্বস্তি নেই। 

খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধরনভেদে খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হলেও খুচরা দামে তার প্রভাব পড়েনি। এছাড়া ছোলা, পেঁয়াজ, চিনি, মসুর ডাল, মটর ডাল ও সয়াবিন তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বর্তমানে সবচেয়ে কম দামে বস্তা খেজুর বিক্রি হচ্ছে কেজি ২২০ টাকায়। জাহিদি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, দাবাস ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা। বড়ই ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, কালমি ৭০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা, মরিয়ম ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড এসোসিয়েশনের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘এবার আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি। দামও হাতের নাগালে আছে। তবে খেজুরের দাম কিছুটা বেড়েছে। এর দুইটি কারণের মধ্যে একটি হলো- আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি এবং অন্যটি হলো- খেজুরের একটি জাহাজ ডুবে যাওয়া। তবে এটি বলতে পারি, আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আরও খেজুর আসবে। তাই দামও কমে আসবে।’

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম বলেন, ‘খেজুরে কিছুটা সংকট রয়েছে। একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কিছু পণ্য নষ্ট হয়েছে। আবার শুল্ক কমার আশায় আমদানিকারকেরা কিছু সময় আমদানি কমিয়েছিলেন। তবে সামগ্রিকভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।’

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘ছোলা, মটর ও খেজুরসহ রমজানসংশ্লিষ্ট পণ্যে কোনো ঘাটতি নেই। তাঁর মতে, বিশেষ করে ছোলার বাজারে আমদানি বেশি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় দাম তুলনামূলক কম রয়েছে।’