Cvoice24.com

বিয়ের পরদিনই গহনা চুরির অভিযোগে নববধূ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮:৫০, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিয়ের পরদিনই গহনা চুরির অভিযোগে নববধূ গ্রেপ্তার

তিন দিন ধরে চলেছে বিয়ের আয়োজন। উপহার পেয়েছেন লাখ লাখ লিরা মূল্যের স্বর্ণালংকার। কিন্তু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরদিনই স্বামীর বাড়ি থেকে চলে যান নববধূ। পরে তার বিরুদ্ধে গহনা ও নগদ অর্থ চুরির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে তুরস্কের পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় মুগলা প্রদেশের মিলাসে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজ।

গ্রেপ্তার নববধূর নাম মামুরা কালপুনোভা। তিনি উজবেকিস্তানের নাগরিক। মুস্তফা আতেসোগলো নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

তোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামুরা ও মুস্তফার বিয়ে চলে টানা তিন দিন ও তিন রাত। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনে শত শত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ছিল রাতের তেলকুস্তির প্রতিযোগিতাও।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরদিন স্বামীর বাড়ি থেকে চলে যান মামুরা। এরপর আতেসোগলো পরিবার অভিযোগ করে, বিয়েতে উপহার পাওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থের একটি অংশ নিখোঁজ হয়েছে।

পুলিশের হিসাবে, নিখোঁজ গহনার মূল্য ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ তুর্কি লিরা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ। অভিযোগের ভিত্তিতে মিলাসের প্রসিকিউটর কার্যালয় তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তের অংশ হিসেবে মামুরাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে গহনা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামুরা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, বিয়েতে পাওয়া সব গহনা তিনি নেননি। স্বামীর হুমকি ও অপমানের কারণে রাগ করে মায়ের বাড়িতে চলে যান তিনি।

মামুরার ভাষ্য, সঙ্গে তিনি নিয়েছেন ২০টি কোয়ার্টার সোনার কয়েন ও ২ লাখ ২৬ হাজার তুর্কি লিরা নগদ। বাকি গহনাগুলো তার শ্বশুরের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আটকের পর মামুরার অবস্থান করা বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে সেখানে নিখোঁজ গহনা উদ্ধার করা যায়নি। গহনাগুলোর অবস্থান এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

তুরস্কে বিয়েতে নবদম্পতিকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ উপহার দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। অনেক পরিবার এসব উপহারকে ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা ও পারিবারিক সম্পদের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। এ কারণে ঘটনাটি দেশটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত মামুরার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।