শারদীয় দুর্গোৎসব
লিখেছেন : প্রদীপ্ত চক্রবর্তী
কাশফুল, নীলাকাশ আর সাদা মেঘের ভেলা জানান দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগমন। কৈলাস থেকে মর্ত্যে আগমন করবেন দেবী দুর্গা। তাঁর আগমনে অশুভ শত্রুর বিনাশ আর জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। এ বিশ্বাস নিয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চলছে দেবী বন্দনার প্রস্তুতি।
সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় পর্ব শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে চলছে সাজ সাজ রব। মন্ডপ ও মন্দিরগুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। দুর্গোৎসবের প্রধান অনুসঙ্গ হলো দেবী দুর্গার প্রতিমা। তাই উৎসব সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরা। পূজা শুরুর আগেই মা দুর্গাকে তুলতে হবে মন্ডপে।
প্রতিমা শিল্পীদের সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাদের কারিগররাও। বিভিন্ন স্থানে পাকা মন্দিরগুলো রং আর কাপড়ের বাহারি সাজে সেজেছে। সংগীত, নৃত্য, আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটকের মধ্য দিয়ে বর্ণিল উৎসব পালনের জন্য বিরামহীন প্রস্তুতি। ঢাকা, চট্টগ্রামের মন্ডপগুলোর প্রতিমার মাটির কাজ এরই মধ্যে শেষ করে ফেলেছে। মূর্তি গড়া শেষে রং তুলির আচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রতিমা।
চট্টগ্রামের পটিয়া হাবিলাসদ্বীপ সমাজ কল্যাণ সংসদ পুজা মন্ডপের মৃৎশিল্পী নিতাই পাল বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা অধীর আগ্রহে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজের অপেক্ষায় থাকি। শুধুমাত্র জীবিকার জন্য নয়; দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের ধর্মীয় অনুভুতি, ভক্তি আর ভালবাসা। দুর্গা মাকে মায়ের মতোই তৈরি করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ পূজা উৎযাপন পরিষদের সূত্র মতে, এ বছর সারা দেশে পূজা মন্ডপের সংখ্যা ৩৩,৩৫৫টি । সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজা মন্ডপ চট্টগ্রামে ১,৬১৪টি। এবার ঢাকা মহানগরীতে পূজা মন্ডপের সংখ্যা ২৫৯ এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৯২টি ।
শনিবার ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। পূজা শুরুর আগে সন্ধ্যায় বেল শাখায় দেবীর বোধন এক অত্যাবশকীয় আচার। শারদীয় এ উৎসবে বোধনের বিশেষ উল্লেখতা রয়েছে। পুরান অনুসারে, ভগবান রাম চন্দ্র শরৎকালে রাক্ষস রাজ রাবনকে বধ করার উদ্দেশ্য দুর্গাপূজা করেন। তিনি অকালে এই বোধন করেছিলেন বলে একে অকাল বোধনও বলা হয়। এ বছর গজে চরে দেবী দুর্গা মর্ত্য লোকে পদার্পণ করবেন। যার অর্থ হল, শস্য শ্যামলা বসুন্ধরা। ফলত, দেবীর আগমনকালে চারিদিকে ফুলে ফলে ভরে থাকার বার্তা রয়েছে। এমনই ইঙ্গিত দেয় শাস্ত্রমত।
রবিবার ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গা পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পূজা চলবে ৫ দিন। ২ অক্টোবর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরো দৃঢ় হবে-এমনটাই সবার প্রত্যাশা।
লেখক : বিনোদন লেখক, সংস্কৃতিকর্মী ও প্রাবন্ধিক।
কলম সব খবর















