Cvoice24.com

প্রযুক্তির ছায়া যেন শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের অন্তরায় 

এসটিএফ যূঁথী
১১:৪৪, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রযুক্তির ছায়া যেন শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের অন্তরায় 

একটি স্মার্টফোন—শিশুর বিকাশে যেন এক অদৃশ্য বড় বাঁধা। সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটিও মোবাইল দেখলে কান্না থামিয়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে পর্দার দিকে। প্রযুক্তির সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম এখন মোবাইল ফোন। আর যখন থেকে শিশুরা মোবাইলকে বিনোদনের একমাত্র ভরসা হিসেবে পেয়েছে, ঠিক সেদিন থেকেই বদলে গেছে তাদের শৈশব। হারিয়ে গেছে সৃজনশীলতা, হারিয়ে গেছে স্বাভাবিক শিশু–আনন্দ।

খেতে, ঘুমাতে যাওয়ার আগে, অবসরে—যখনই সময় পায়, শিশুরা হাতে নেয় মোবাইল। মোবাইলই তাদের একমাত্র সঙ্গী। চঞ্চলতা নেই, হাসি–খুশির প্রকাশ নেই, সব সময় খিটখিটে স্বভাব—এভাবেই কাটে এখন অনেক শিশুর দৈনন্দিন জীবন। এর প্রভাবে ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে তাদের শারীরিক ও মানসিক আচরণ। দেখা দেয় নানা জটিলতা।

ধীরে ধীরে শিশুরা একাকী হয়ে পড়ে। নেই তেমন বন্ধু–বান্ধব, কারও সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে না। চুপ থাকতেই স্বস্তি খুঁজে পায়। খেলাধুলা, পড়াশোনা—কোনো কিছুতেই মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। ফলে প্রযুক্তি হয়ে দাঁড়ায় শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের বড় অন্তরায়।

শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রযুক্তিনির্ভরতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজন ভিন্নধর্মী উদ্যোগ। খোলা জায়গায় খেলার সুযোগ বাড়াতে হবে, বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে শিশুদের—যা তাদের মেধা বিকাশে সহায়তা করবে। সাংস্কৃতিক চর্চা, ক্রীড়া, প্রতিভা বিকাশমূলক কার্যক্রম শিশুর ভবিষ্যতের মজবুত ভিত্তি তৈরি করে। গঠনমূলক কাজেই তারা হয়ে উঠবে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী।

শিশুর সঙ্গে নিয়মিত কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে অনেক সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব। শিশুর মনোজগৎ বোঝা, তার অনুভূতিগুলো মূল্যায়ন করা—এসবের প্রভাব শিশুকে আরও সমৃদ্ধ হতে সাহায্য করে। এখানে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করতে হবে, সময় দিতে হবে। তাহলেই শিশুর আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে সহজে।

প্রয়োজনে শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা সার্টিফাইড চাইল্ড কাউন্সিলরের সহায়তা নিতে দ্বিধা নেই। শিশুর মানসিক বিকাশ ও সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য এটি হতে পারে সবচেয়ে উপযোগী পথ। কারণ আজকের কোমলমতি শিশুরাই একদিন নেতৃত্ব দেবে নতুন বিশ্বকে। তাদের সুস্থ–স্বাভাবিক বিকাশই গড়ে দেবে আলোকিত আগামী।

লেখক- শিক্ষক