শিক্ষার্থীর আচরণে পরিবর্তন দেখলে কারণ খুঁজতে হবে : চসিক মেয়র
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
শিক্ষার্থীর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, পড়াশোনায় অনাগ্রহ কিংবা সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিশতে না চাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে এর কারণ খুঁজে বের করতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও শিক্ষকের দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চসিক পরিচালিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
চসিক মেয়র বলেন, একটি শিশু ঘর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসার পর তার দেখভালের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব শিক্ষকের ওপর বর্তায়। তাই শিক্ষককে শুধু শিক্ষক হিসেবে নয়, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী যথাযথ কাউন্সেলিংয়ের অভাবে তাদের সম্ভাবনা অনুযায়ী বিকশিত হতে পারে না। কোনো শিক্ষার্থী অস্বাভাবিক আচরণ করলে বা নিজেকে গুটিয়ে নিলে তার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলে সমস্যার কারণ জানার চেষ্টা করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা দিতে চসিকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মনোবিজ্ঞানী ও কাউন্সেলিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মেয়র। প্রয়োজনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করলে হবে না। তাদের পারিবারিক পরিবেশ, আচরণ, নিয়মিত উপস্থিতি এবং পড়াশোনার পরিস্থিতিও শিক্ষকদের খেয়াল রাখতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত অনুপস্থিত থাকলে অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
‘একঘেয়ে ক্লাসে শিক্ষার্থীর আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন’
শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে সম্পৃক্ত করতে পাঠদানের ধরনেও পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন মেয়র। তার মতে, একজন শিক্ষকের ক্লাস যত বেশি প্রাণবন্ত ও আনন্দময় হবে, শিক্ষার্থীরা তত বেশি আগ্রহ নিয়ে পাঠ গ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, গল্প, কৌতুক, গান, উদাহরণ ও বাস্তব জীবনের বিভিন্ন বিষয় ব্যবহার করে কঠিন পাঠও সহজে শিক্ষার্থীদের বোঝানো যায়। কঠিন বিষয়কে সহজ সূত্র বা স্মরণযোগ্য পদ্ধতিতে উপস্থাপন করলে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে তা শিখতে পারে।
মেয়র বলেন, ‘শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষক নিজেও একজন আজীবন শিক্ষার্থী। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার মানসিকতা একজন শিক্ষককে আরও সমৃদ্ধ করে।’
খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের ওপর গুরুত্ব
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মেয়র। তিনি বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকায় খেলার মাঠ উন্নয়ন এবং নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
চসিকের শিক্ষা কার্যক্রম প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সিটি করপোরেশন ব্যয়কে শুধু ব্যয় হিসেবে দেখে না; বরং এটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতাসহ শিক্ষা খাতে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই।
ড. কিসিন্জার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চসিকের শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দু’দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। চসিক পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে এ কর্মসূচির আওতায়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের সমাজের ‘দর্পণ’ হিসেবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, শিক্ষকরাই একটি প্রজন্মকে জ্ঞান, মূল্যবোধ ও মানবিকতায় সমৃদ্ধ করে সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর













