Cvoice24.com

পান-মসলার আড়ালে ভারতীয় তামাক

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৮:০৬, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পান-মসলার আড়ালে ভারতীয় তামাক

ভারত থেকে তামাকজাত পণ্য আমদানিতে কমিশনের ভিত্তিতে সাড়া দিয়েছিল ‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’। পরে কমিশন বা অন্য কোনো ঝামেলার আশঙ্কায় প্রতিষ্ঠানটি চালানটির তথ্য শুল্ক গোয়েন্দাকে জানিয়ে দেয়। এ তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা। পান-মসলা ও জর্দার নামে ভারত থেকে আনা এ চালানে শনাক্ত করা হয় তামাকজাত ও তামাকসদৃশ পণ্য, বিভিন্ন রঙের মাদকসদৃশ পাউডার এবং সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ কাগজ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কায়িক পরীক্ষা শেষে এ তথ্য জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক।

তিনি সিভয়েস২৪-কে বলেন, ‘আমরা পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা করছি, ভারত থেকে আনা তামাকজাত পণ্য আমদানিতে ‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’ জড়িত ছিল। কারণ আমদানিকারকের সম্মতি ছাড়া কোনো পণ্য আমদানি করার সুযোগ নেই। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি হয়তো কমিশনের ভিত্তিতে এ পণ্য আমদানিতে সাড়া দেয়। তবে পরে কমিশন বা অন্য কোনো ঝামেলার কারণে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি চালানটির তথ্য শুল্ক গোয়েন্দাকে জানিয়ে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমদানিকারকের দেওয়া তথ্য আমরা চালানটির কায়িক পরীক্ষা করি। পরীক্ষায় চার ধরনের ৪৭০ প্যাকেটে ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ পণ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে গাঢ় বাদামি রঙের ৪২১ প্যাকেটে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি, বাদামি রঙের ৩১ প্যাকেটে ৫২৭ কেজি, ধূসর রঙের ১৩ প্যাকেটে ২৭৩ কেজি এবং সাদা রঙের পাঁচ প্যাকেটে ১২৫ কেজি পণ্য রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রঙের কিছু পাউডারজাত পদার্থও পাওয়া যায়, যা বাহ্যিকভাবে মাদকসদৃশ বলে সন্দেহ করা হয়েছে। তবে এসব পদার্থ মাদক, নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত উপাদান কি না, তা রাসায়নিক বা পরীক্ষাগার পরীক্ষার আগে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।’

কাস্টমস নথি অনুযায়ী, কলকাতা থেকে ‘উদ্দীপন এক্সপ্রেস’ নামের জাহাজে করে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। ২০ সেপ্টেম্বর জাহাজটি কলকাতা থেকে ছেড়ে ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই মাস্টার বি/এলের অধীনে দুটি হাউস বি/এল ছিল। এর মধ্যে হাউস বি/এল আইএসএলসিসিইউ ২৬২৭সিজিপিও৯৫-এ পণ্যের বিবরণ হিসেবে ‘পান মসলা অ্যান্ড জর্দা (চিবানোর তামাকজাত পণ্য)’ উল্লেখ করা হয়। এতে ৪৭৩ প্যাকেটে ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি পণ্য থাকার কথা উল্লেখ ছিল।

অন্য একটি হাউস বি/এল আইএসএলসিসিইউ ২৬২৭সিজিপিও৯৬-এ পণ্যের বিবরণ হিসেবে ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ উল্লেখ করা হয়। এতে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেটে ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি পণ্য থাকার কথা বলা হলেও কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেটে ৯ হাজার ২৬৩ কেজি সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ কাগজ পাওয়া যায়।

দুটি হাউস বি/এল মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৪০টি প্যাকেটে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি বা প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ এবং সন্দেহজনক পাউডারজাত পণ্য এবং প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ কাগজ রয়েছে। চালানটির পণ্য ও আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দার তদন্ত চলছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা।