Cvoice24.com

রাজস্থলীতে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাহ

কাপ্তাই প্রতিনিধি
২০:০০, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজস্থলীতে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাহ

রাঙামাটির রাজস্থলীতে ঈমন দাশ (৩০) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁর লাশ দাহ করা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্যের দাবি, দাহ করার সময় তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

মঙ্গলবার উপজেলার ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া এলাকায় প্রবীর শীলের বাড়ি থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঈমনকে উদ্ধার করা হয়।

পরে দুলাল দে ও অজয় নামে দুই ব্যক্তি তাঁকে চন্দ্রঘোনা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঈমন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ব্রাহ্মণহাট আশ্বিনা এলাকার পোস্টমাস্টার বাড়ির স্বপন কান্তি দাশের ছেলে।

ঈমনের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনেরা লাশ রাউজানে নিয়ে যান। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁর দাহ সম্পন্ন হয়।

তবে ঈমনের জেঠাতো ভাই কাঞ্চন দাশের দাবি, দাহ করার সময় তাঁর পায়ের হাঁটু ও মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তাঁরা।

তিনি বলেন, “ঘটনাটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। এর পেছনে কী ঘটেছে, তা তদন্ত করে বের করা দরকার।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রবীর শীলের পরিবারের সঙ্গে ঈমনের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ওই বাড়ির এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ঈমনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে এ তথ্যের স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিমুল দাশ বলেন, ঈমনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। পুরো বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।

চন্দ্রঘোনা হেলথ কেয়ার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, ঈমনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে তাঁর স্বজনেরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে চলে যান।

চন্দ্রঘোনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আক্তারুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ প্রবীর শীলের বাড়িতে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাড়ির দুই নারীকে থানায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাহ করায় বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তা তদন্তের পর জানা যাবে। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”