‘পরিবর্তন চাইলে নিজের অবদান নিয়ে ভাবতে হবে’
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
দেশ ও সমাজের পরিবর্তন চাইলে শুধু প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে না থেকে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব ও অবদান নিয়ে ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, সবাই দেশকে সুন্দর ও উন্নত দেখতে চান। কিন্তু দেশ ও সমাজের পরিবর্তনে নিজের ভূমিকা কী—প্রত্যেককে সেই প্রশ্ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে প্রশ্ন করি—দেশকে উন্নত করার জন্য আমি কী করছি? আমার অবদান কী? দেশ ও সমাজের পরিবর্তনে আপনার অবদান কী—এই প্রশ্নটি আপনাদের কাছে রেখে যেতে চাই।’
উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শুধু উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবর্তিত বাজার ও ভোক্তার চাহিদা বুঝতে হবে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে ক্রেতার চাহিদা নিয়ে আগাম গবেষণা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ক্রেতাকে বুঝতে না পারি, সেই গবেষণা যদি আমাদের না থাকে, তাহলে বাজারে টিকে থাকতে পারব না।’
বিশ্বের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, সফল প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের ভোক্তার রুচি ও চাহিদা নিয়ে আগাম গবেষণা করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের পছন্দ কীভাবে বদলাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তারা কী ধরনের পণ্য ও সেবা চাইবে—এসব বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।
বর্তমান বিশ্বে দেশ ও বাজারগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চিন্তাভাবনাকেও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
পরিবর্তনের প্রতি অনীহাকে অগ্রগতির অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন কিছু করতে গেলে সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জ আসবেই। সেই আশঙ্কায় প্রচলিত ধারায় আটকে থাকলে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বড় সমস্যা হলো, আমরা পরিবর্তন পছন্দ করি না। যেভাবে চলছে, সেভাবেই ধরে রাখতে চাই। কারণ পরিবর্তন করতে গেলে সমালোচনা ও নানা চ্যালেঞ্জ আসে।’
উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন ধারণা গ্রহণ ও সৃষ্টিশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তার ভাষ্য, চ্যালেঞ্জ ছাড়া বড় অর্জন সম্ভব নয়।
চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে এ অঞ্চলের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তাই চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও মানুষের প্রত্যাশা বেশি।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা করে। তারা নতুন ধারণা নিয়ে আসবেন, নতুন কিছু সৃষ্টি করবেন। সৃষ্টিশীলতা আসতে হবে।’
ব্যবসায়ীদের পরিবর্তিত বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে তিনি ক্রেতার চাহিদা, তরুণ প্রজন্মের রুচি এবং ভবিষ্যৎ বাজার নিয়ে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দেশ ও সমাজের পরিবর্তনে ব্যক্তিগত দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সময় শুধু নিজের জন্য নয়, সমাজ ও দেশের জন্যও কাজে লাগাতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিক—সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের উর্বর ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ প্রতিকূল আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করেও উন্নতি করেছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ প্রাকৃতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও উন্নত দেশ রেখে যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। বর্তমান প্রজন্ম দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের দায়ী করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এমন অভিযোগ না করে যে আগের প্রজন্ম রাষ্ট্রের সবকিছু ভোগ করে তাদের জন্য শুধু সংকট রেখে গেছে।
দেশ ও সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে এই দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করি।’
চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর














