Cvoice24.com

এনসিটি-সিসিটি ইজারা উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন
‘শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারে আরও সক্রিয়’

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৮:৪৭, ১ জুলাই ২০২৬
‘শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারে আরও সক্রিয়’

বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের মতামত, জাতীয় স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

বুধবার (১ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বন্দর রক্ষা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আবুল মোমেন বলেন, ‘বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো দুর্বল রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ খুঁজছে। তাই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং অবকাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।’

সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার এবং জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। এনসিটি ও সিসিটি বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনালগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই এসব টার্মিনালের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বক্তাদের অভিযোগ, এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে দেশব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক-কর্মচারী এবং নাগরিক সমাজের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন। জাতীয় সম্পদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গোপনীয়তা কিংবা তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও তারা মন্তব্য করেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এসকে খোদা তোতন, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড অশোক সাহা এবং স্কপ চট্টগ্রামের যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খান।

এছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, প্রচার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী, সহকারী সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, শ্রমিক নেতা ইব্রাহীম ফরাজী, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহসভাপতি রুপম কান্তি ধর এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি শুভ দেবনাথ।

সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা প্রদানের প্রক্রিয়া বাতিলের সুস্পষ্ট সরকারি ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং দক্ষ জনবল গড়ে তুলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তারা।