Cvoice24.com

শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় জরুরি

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৯:১৯, ৪ নভেম্বর ২০২৬
শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় জরুরি

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠ্যক্রমে শিল্প খাতের চাহিদা প্রতিফলিত করতে হবে। শ্রেণিকক্ষে শিল্পোদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ বাড়াতে হবে। ২০২৯ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হবে। শিল্পের সমস্যা সমাধানে উদ্যোক্তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের অতিথি বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো প্রয়োজন। পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও সংশোধনে শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণালব্ধ ফলাফলের বাণিজ্যিকীকরণ ও যৌথ গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিতে হবে।’

আলোচনায় একাডেমিয়ার পক্ষে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। ইন্ডাস্ট্রির পক্ষে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম প্রণয়নে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল কাঠামোগত পরিবর্তন বা প্যারাডাইম শিফট প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরাসরি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার মধ্যে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একাডেমিয়া ও শিল্প খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোর অন্যতম কারণ পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সমন্বিত উদ্যোগের অভাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান, গবেষণা ও মেধাকে শিল্পের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে হবে। নিয়োগদাতারা যে ধরনের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী চান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে তার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব চাহিদার সামঞ্জস্য ও ঘাটতি নির্ধারণে শিল্পোদ্যোক্তা এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় ঘটাতে হবে। দক্ষ ও কর্মমুখী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষাকে শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের উপযোগী করে তুলতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিশেষায়িত দক্ষতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।’

চেম্বার সভাপতি আরও বলেন, ‘আগামীর শিক্ষাব্যবস্থাকে অর্থনীতির সহায়ক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতের অর্থনীতি হবে প্রতিযোগিতামূলক ও চ্যালেঞ্জিং। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে।’

পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব জরুরি। প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে একাডেমিয়ার জ্ঞানকে শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের শিল্প খাতের সক্ষমতা বাড়বে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান ও গবেষণাকে শিল্প খাতের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন প্রয়োজন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব ও গবেষণাগারের উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) তহবিলের অর্থ ব্যয়ের আহ্বান জানান।

সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, একেখান গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দীন কাসেম খান, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী ও এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এস এম ফজলুল হক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর, চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আসাদ ইফতেখার, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান ও মো. সেলিম নুর। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ হাসান মিয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক এবং বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।