সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু মঙ্গলবার
সিভয়েস২৪ ডেস্ক
দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হচ্ছে। পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত।
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২১ হাজার ১১৮ জন।
শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, এবার পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসমুক্ত, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ একগুচ্ছ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রথম দিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র এবং সহজ বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির বলেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং পরীক্ষা চলাকালে যেকোনো অনিয়ম এড়াতে কঠোর নজরদারি থাকবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, এবার প্রথমবার প্রশ্নপত্র পরিবহনকারীদের ডিজিটাল ট্র্যাকিং করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গরমে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে কেন্দ্রের গেট সকাল সাড়ে ৮টায় খুলে দেওয়া হবে। কেন্দ্রগুলোতে সুপেয় পানি, আইপিএস ও জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ১২ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন।
বোর্ডভিত্তিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৩৫ জন, রাজশাহীতে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৯ জন, কুমিল্লায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০৬ জন, যশোরে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮৯ জন, চট্টগ্রামে ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৭৯ জন, বরিশালে ৮১ হাজার ৮৩১ জন, সিলেটে ৮৯ হাজার ১৯০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭০১ জন এবং ময়মনসিংহে ১ লাখ ৯ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৫১ জন। এসএসসি (ভোকেশনাল) এ ১ লাখ ৩২ হাজার ১৯৮ জন এবং দাখিল (ভোকেশনাল) এ ২ হাজার ৪৬২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৯০২টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৪২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ বাধ্যতামূলক। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেরি হলে রেজিস্টারে তথ্য লিপিবদ্ধ করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী (MCQ) এবং পরে সৃজনশীল/রচনামূলক পরীক্ষা হবে। দুই অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রবেশপত্র প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছ থেকে পরীক্ষার অন্তত সাত দিন আগে সংগ্রহ করতে হবে।
পরীক্ষার শৃঙ্খলা ও নিষেধাজ্ঞা
- পরীক্ষার্থীদের OMR ফরমে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
- প্রতিটি অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হবে। শুধুমাত্র নিবন্ধিত বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে।
- শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। তবে কেন্দ্রসচিব ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবে না।
- প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন পরিদর্শক থাকবে। বেঞ্চ অনুযায়ী আসন বিন্যাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
- কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের জটলা এড়াতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে হ্যান্ড মাইক ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
- পরীক্ষা শুরুর আগে টয়লেট ও কেন্দ্র তল্লাশি করে নকলবিরোধী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনে পুলিশ থাকবে এবং ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্র খোলা হবে।
কেন্দ্রসচিবদের নির্দেশনা
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে—নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের এবং অনিয়মিত/মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা দেবে।
- সেট কোড ছাড়া প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা যাবে না
- কেন্দ্রসচিব ছাড়া কেউ মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না
- নকল প্রতিরোধ পোস্টার দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে
- কেন্দ্রের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকার একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে চায়। তিনি বলেন, কড়াকড়ি পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যৎ পাবলিক পরীক্ষায় ‘নীরব বহিষ্কার’-এর সুযোগ থাকবে না এবং ১৯৬১ সালের নীতিমালার ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের নির্ভয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সবার সাফল্য কামনা করেন।
শিক্ষা সব খবর















