Cvoice24.com

লতা–আশা: জীবনে যেমন, বিদায়েও তেমন

বিনোদন ডেস্ক
১২:৪১, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
লতা–আশা: জীবনে যেমন, বিদায়েও তেমন

ভারতের দুই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলে—জীবনের মতো বিদায়েও যেন অদ্ভুত এক মিল রেখে গেলেন। ছোট বোন আশার মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই বোনের প্রয়াণ ঘিরে এই কাকতালীয় সাদৃশ্য।

২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৯২ বছর বয়সে মারা যান লতা মঙ্গেশকর। প্রায় চার বছর পর, ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল, একই বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন আশা ভোঁসলে। শুধু বয়সই নয়, দুই বোনই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন মুম্বাইয়ের একই হাসপাতাল ব্রিচ ক্যান্ডিতে।

চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যেও মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। বার্ধক্যজনিত জটিলতার পাশাপাশি ‘মাল্টি অর্গান ফেলিওর’-এর কারণে মৃত্যু হয়েছিল লতার। একই ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগেই মারা যান আশাও। এমনকি দুই বোনই রবিবার দিনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে দুই বোনের সম্পর্ক নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত ছিল। কখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কখনও দূরত্ব—সব মিলিয়ে তাদের সম্পর্ক নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে সেই তিক্ততা অনেকটাই মুছে গিয়েছিল বলে মনে করেন অনেকে। আর জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে এই মিলগুলো যেন নতুন করে সেই সম্পর্কের কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শুধু সংগীতাঙ্গনেই নয়, ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পদ নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি কয়েকশ কোটি রুপির সম্পদ রেখে গেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই পরিমাণ ২০০ থেকে ২৫০ কোটি রুপি পর্যন্ত বলা হয়েছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে কম হিসাবও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সম্পদের বড় অংশ এসেছে তার দীর্ঘ সংগীতজীবন, লাইভ পারফরম্যান্স, আন্তর্জাতিক শো এবং রয়্যালটি আয়ের মাধ্যমে। ২০টির বেশি ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গাওয়া এই শিল্পী নিয়মিত আয় করতেন ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম থেকেও।

রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। মুম্বাই ও পুনেসহ বিভিন্ন শহরে তার একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। পাশাপাশি দুবাই থেকে শুরু হওয়া তার রেস্তোরাঁ চেইন ‘আশা’জ’ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিস্তৃত হয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানকে আগেই হারান আশা ভোঁসলে। বর্তমানে তার একমাত্র ছেলে আনন্দ ভোঁসলে ও নাতি-নাতনিরাই এই সম্পদের সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

১৯৩৩ সালে মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া আশা ভোঁসলে সংগীতশিল্পী পরিবারেই বড় হন। বাবা দীননাথ মঙ্গেশকরের কাছে সংগীতে হাতেখড়ি। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের বিশাল জনপ্রিয়তার মধ্যেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

হিন্দি চলচ্চিত্রে ও.পি. নায়ার ও পরে আর.ডি. বর্মণের সঙ্গে তার কাজ সংগীতজগতে নতুন ধারা তৈরি করে। ‘আজা আজা ম্যায় হুঁ পেয়ার তেরা’, ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ কিংবা ‘মেরা কিছু সামান’—এর মতো গান আজও শ্রোতাদের মনে জায়গা করে আছে।

বাংলা গানেও তিনি রেখেছেন সমান ছাপ। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে কোটি শ্রোতাকে মুগ্ধ করেছেন তিনি।

দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ও পদ্মবিভূষণসহ বহু সম্মানে ভূষিত এই শিল্পী রেখে গেলেন অমর কণ্ঠের এক বিশাল ভাণ্ডার—যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।