রবীন্দ্রনাথের গান-কবিতায় সাজলো দীপান্বিতার পাঠশালার আসর
সিভয়েস২৪ ডেস্ক
দীপান্বিতার পাঠশালার আয়োজনে চট্টগ্রাম একাডেমির ফয়েজ নূর নাহার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে রবীন্দ্রস্মরণ অনুষ্ঠান ‘আজি এ প্রভাতে রবির কর’। মঙ্গলবার (১২ মে) অনুষ্ঠিত এ আয়োজন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর শব্দ, সুর ও চেতনায় হয়ে ওঠে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক বর্ণিল মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় রবীন্দ্রসংগীত ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ পরিবেশনার মাধ্যমে। সমাপ্তি ঘটে ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ গানের আবেশময় পরিবেশনায়।
একক আবৃত্তি, সহজপাঠ অবলম্বনে বৃন্দ আবৃত্তি এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বীরপুরুষ’ নাটকের প্রাণবন্ত মঞ্চায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতি ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাবন্ধিক, গবেষক ও কলামিস্ট অমল বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যবসায়ী ও বেস্ট মেডিকেল সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী কৌশিক চৌধুরী এবং ছড়াকার নাটু বিকাশ বড়ুয়া।
এতে বক্তব্য রাখেন ডা. ইব্রাহিম শাহাদাত, আবুল কাশেম, সুরাইয়া খন্দকার দিশা, চিনু মারমা ও কৃষ্ণা ঘোষ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রচর্চা শিশুদের মনন, মানবিকতা ও সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দীপান্বিতার পাঠশালার হাত ধরে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির পথে আরও এগিয়ে যাবে।
সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেয় ক্ষুদে শিল্পীরা— শোয়ে নুয়েলী, জারিফ তাহমিদ, শোয়ে ইনজালি, সিনান মুসাইদ, ইলমা শাহাদাত, আরিজ ইফরাজ, জুনাইনা মায়ামীন, শেহজাদ আলম আদিয়ান এবং গাজী মো. আফসান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফারজানা মাহজাবীন। এছাড়া আমন্ত্রিত নৃত্যশিল্পী রক্তিমা ঘোষের নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন পর্বে শিশু শিল্পীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়। একইসঙ্গে দীপান্বিতার পাঠশালার পক্ষ থেকে অতিথিদের উত্তরীয় ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এ সময় দীপান্বিতার পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা দীপান্বিতা বলেন, ‘সংস্কৃতি ও সাহিত্যজগতের সঙ্গে যুক্ত থাকলে মানুষ কখনো সংকীর্ণ বা বিপরীতমুখী মানসিকতার হয় না। শিল্প-সাহিত্য চর্চাকারীরা কখনো অসুরের সঙ্গে লড়াই করতে যায় না, কারণ তারা সবসময় সুর ও সৌন্দর্যের ভেতরেই অবস্থান করে।’
আয়োজকদের মতে, শিশুদের আগে নিজেদের কাছের মানুষদের সম্মান করতে শেখানোই প্রকৃত শিক্ষার ভিত্তি। আজকের যান্ত্রিক যুগে শিশুদের শৈশব যখন চার দেয়ালে বন্দী, তখন রবীন্দ্রনাথের মুক্তচিন্তা ও শিশুদর্শনই শিশুদের সঠিক পথ দেখাতে পারে। শিশুদের তাদের মতো করে বেড়ে উঠতে দেওয়াই হোক কবিগুরুর প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি— এমন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
সাহিত্য-সংস্কৃতি সব খবর















