ফ্রান্সকে থামিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে লামিন ইয়ামালরা
ক্রীড়া ডেস্ক, সিভয়েস২৪
বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান ডেম্বেলে, বারকোলা—তারকাখচিত আক্রমণভাগ নিয়ে তারা ছিল অনেকেরই শিরোপা-প্রত্যাশী। কিন্তু সেমিফাইনালের মঞ্চে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সামনে যেন কোনো উত্তরই খুঁজে পেল না দিদিয়ের দেশমের দল। ডালাস স্টেডিয়ামে আধিপত্যের ফুটবল খেলেই ২-০ গোলের জয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্প্যানিশরা।
২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার আবারও শিরোপা ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে লামিন ইয়ামালদের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। নবম মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পেলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেনি লা রোজা। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি।
২৩তম মিনিটে ফ্রান্সের ডি-বক্সে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে দুর্দান্ত শটে গোলরক্ষক মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করে স্পেনকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক মিকেল ওইয়ারসাবাল।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় ফ্রান্স। এমবাপে কয়েকবার গতি দিয়ে স্পেনের রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও কুকুরেয়া, লাপোর্তে ও কুবারসির দৃঢ় রক্ষণভাগ তাকে সুযোগ নিতে দেয়নি। অন্যদিকে গোলরক্ষক উনাই সিমনও ছিলেন দুর্ভেদ্য।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে স্পেন আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্পেন। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে দানি ওলমোর সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু পাস খেলে পেড্রো পোরো ফ্রান্সের জালে দ্বিতীয়বার বল জড়ান। দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্প্যানিশরা।
এর কিছুক্ষণ পর ইয়ামাল বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। অন্যদিকে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টায় একের পর এক আক্রমণ চালায় ফ্রান্স। কিন্তু এমবাপের শট কুকুরেয়ার ব্লকে আটকে যায়, আবার কখনো উনাই সিমনের অসাধারণ সেভে হতাশ হতে হয় ফরাসিদের।
শেষ ১০ মিনিটে ফ্রান্স সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ চালালেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। নির্ধারিত সময় শেষে ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।
এই জয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তারা।
অন্যদিকে সেমিফাইনালে হেরে গেলেও টুর্নামেন্ট শেষ হয়নি ফ্রান্সের। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পরাজিত দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে এমবাপ্পেরা।
খেলাধুলা সব খবর















