Cvoice24.com

ইয়ামালের প্রেমিকার গলায় ৪৩ লাখ টাকার নেকলেস! কী আছে এতে

ক্রীড়া ডেস্ক, সিভয়েস২৪
১৫:৪৫, ১৮ জুলাই ২০২৬
ইয়ামালের প্রেমিকার গলায় ৪৩ লাখ টাকার নেকলেস! কী আছে এতে

ফুটবল মাঠে তার পায়ের জাদু নিয়ে যত আলোচনা, মাঠের বাইরেও ততটাই কৌতূহলের নাম লামিন ইয়ামাল। স্পেনের এই তরুণ তারকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে নেই কোনো গোল, অ্যাসিস্ট বা রেকর্ড—আছে একটি হীরার নেকলেস।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে স্টেডিয়ামে ইনেস গার্সিয়ার গলায় দেখা যায় এক ব্যতিক্রমী কাস্টম ডায়মন্ড নেকলেস। মুহূর্তেই সেটির ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শুরু হয় আলোচনা—কী এমন আছে এই নেকলেসে?

স্প্যানিশ দৈনিক লা ভ্যানগার্ডিয়া জানিয়েছে, এটি সাধারণ কোনো বিলাসবহুল অলংকার নয়। লামিন ইয়ামাল নিজেই ইনেস গার্সিয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করিয়েছেন এই নেকলেস। এর প্রতিটি অংশ যেন বলে ইয়ামালের জীবনের একেকটি গল্প।

নেকলেসটি ডিজাইন করেছেন স্পেনের খ্যাতনামা জুয়েলার ইনিয়াকি তোরেস, যিনি আইটি জুয়েলার্সের প্রতিষ্ঠাতা। স্প্যানিশ ম্যাগাজিন ওলাকে তিনি জানান, গোলাপি সোনা (রোজ গোল্ড) ও উচ্চমানের হীরা দিয়ে সম্পূর্ণ হাতে তৈরি করা হয়েছে অলংকারটি। বাজারে এর দ্বিতীয় কোনো সংস্করণ নেই।

নেকলেসের একটি অংশে খোদাই করা রয়েছে ‘LY’—লামিন ইয়ামালের নামের আদ্যক্ষর। আরেক অংশে রয়েছে ১০, ১৯, ২৭ ও ৪১—চারটি সংখ্যা, যা তার ফুটবল ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে পরা জার্সি নম্বরের স্মারক।

নেকলেসটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ ‘৩০৪’। এটি বার্সেলোনার রোকাফোন্দা এলাকার পোস্টাল কোড ০৮৩০৪-এর শেষ তিন অঙ্ক। এই এলাকাতেই বেড়ে উঠেছেন ইয়ামাল। তাই সংখ্যাটি শুধু একটি কোড নয়, বরং তার শৈশব, সংগ্রাম এবং নিজের শিকড়ের প্রতি অটুট ভালোবাসার প্রতীক।

নকশায় আরও রয়েছে একটি মুকুট, যা সাফল্য ও স্বপ্নের প্রতীক। পাশাপাশি রয়েছে একটি ফুটবল বুট, যা মনে করিয়ে দেয়—সবকিছুর শুরু সেই ফুটবল থেকেই।

লা ভ্যানগার্ডিয়া ও ওলার তথ্য অনুযায়ী, নেকলেসটির মূল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার সর্বোচ্চ মূল্য প্রায় ৪৩ লাখ টাকা।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রকৃত মূল্য শুধু হীরা বা সোনায় নয়; বরং এর একক নকশা এবং ব্যক্তিগত গল্পে। এটি একটি ‘ওয়ান-অফ-ওয়ান’ ডিজাইন, অর্থাৎ একই নকশার আর কোনো বাণিজ্যিক সংস্করণ নেই।

বিশ্বকাপ চলাকালে ইনেস গার্সিয়া প্রথমবারের মতো নেকলেসটি পরে প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এটি ভাইরাল হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এটিকে শুধু প্রেমিকের উপহার হিসেবে নয়, বরং ইয়ামালের সংগ্রাম, শৈশব, সাফল্য এবং নিজের শিকড়কে কখনো ভুলে না যাওয়ার প্রতীক হিসেবেও দেখছেন।