Cvoice24.com

আর্জেন্টিনাকে বোতলবন্দি করে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক
০৪:০৯, ২০ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনাকে বোতলবন্দি করে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন

অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে স্পেন। নিউইয়র্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে লা রোজারা।

পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে স্পেন। অন্যদিকে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দীর্ঘ সময় স্প্যানিশ প্রেসিংয়ের সামনে কার্যত অসহায় ছিল।

ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই স্পেন এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায়। লামিন ইয়ামালের প্রচেষ্টা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রতিরোধে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা।

শুরুর দিকে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমিয়ে তুললেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। সপ্তম মিনিটে উনাই সিমনের দুর্দান্ত সুইপে নিশ্চিত গোলের সুযোগ হারান লিওনেল মেসি।

প্রথম ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার বল দখল ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ। মেসি, নিকো গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ—এই তিন ফরোয়ার্ড মিলে মাত্র ১৭ বার বল স্পর্শ করেন। অন্যদিকে, স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি মিডফিল্ড ও ডিফেন্সে সমান দক্ষতায় দলকে নেতৃত্ব দেন।

৩৯ মিনিটে লাপোর্তে, রদ্রি ও বায়েনার চমৎকার সমন্বয়ের পর ফাবিয়ানের পাস থেকে মিকেল ওয়ারজাবালের জোরালো শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই মিনিট পর চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

প্রথমার্ধে ৬৫ শতাংশ বলের দখল ছিল স্পেনের, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ। স্পেন লক্ষ্যে দুটি শট নিলেও আর্জেন্টিনা পুরো প্রথমার্ধে লক্ষ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি।

বিরতির পর লিওনেল স্কালোনি লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে নামিয়ে মিডফিল্ডে পরিবর্তন আনেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে স্পেন।

৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকলে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট হয় স্পেনের। এরপর একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করতে পারছিল না লা রোজারা।

৬২ মিনিটে মাঠে নামেন পেদ্রি ও ফেরান তোরেস। পরে নিকো উইলিয়ামস এবং মিকেল মেরিনোকেও নামান স্পেনের কোচ।

৭০ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি। ১৯৬৬ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বকাপ ফাইনালে এটি ছিল অন্যতম বিরল পরিসংখ্যান।

নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে স্পেন একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও এমিলিয়ানো মার্টিনেজ দুর্দান্ত সব সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন। ইনজুরি সময়েও ইয়ামালের ফ্রি-কিক দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর ফাউলের কারণে বাতিল হয়। ফলে ম্যাচ গড়ায় আরও নাটকীয় পরিণতির দিকে।

অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ১০৬ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। পেদ্রো পোরোর আক্রমণ থেকে নিকো উইলিয়ামস বল বাড়িয়ে দেন ফেরান তোরেসের কাছে। সুযোগ হাতছাড়া না করে জালে বল জড়িয়ে দেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

বাকি সময়ে আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে স্পেন।

এই জয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েন ফেরান তোরেস। এর আগে ২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানির হয়ে বদলি নেমে জয়সূচক গোল করেছিলেন মারিও গোটসে। আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি ফুটবলারের গোলে শিরোপা নির্ধারিত হলো।