রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় কেটে মাটি পাচারের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে
উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাম্প্রতিক ভয়াবহ পাহাড়ধসে একাধিক প্রাণহানির ঘটনার পরও বন্ধ হয়নি পাহাড় কেটে মাটি পাচার। এবার উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালীর ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় কেটে মাটি সরানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াতে ইসলামীর নেতার বিরুদ্ধে। এতে পাহাড়ের ওপর বসবাসরত অন্তত ১৩টি রোহিঙ্গা পরিবারের ঘরবাড়ি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে ক্যাম্পের বি-৩ ব্লকে গিয়ে দেখা যায়, একটি উঁচু পাহাড়ের নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা অংশ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হলেও পাহাড়ের স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় রোহিঙ্গাদের দাবি, পাহাড় কাটার কারণে ইতোমধ্যে ৪ থেকে ৫টি ঘর ধসে পড়েছে। আরও অন্তত ৯টি ঘর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় জাফর আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ড্রাম ট্রাকে করে পাহাড়ের মাটি বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে এভাবে পাহাড় কাটতে থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম পালংখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং পালংখালী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, তার তিনতলা ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের পাহাড়ের বড় একটি অংশ কেটে ফেলা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
পালংখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল আলা রোমান বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে সাইফুল ইসলামকে ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পাহাড় কাটা বা মানুষের জীবন হুমকির মুখে ফেলে এমন কোনো কর্মকাণ্ড দলীয়ভাবে সমর্থন করা হয় না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উখিয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শাহিনুর রহমান বলেন, ‘কাঁটাতারের ভেতরের প্রশাসনিক দায়িত্ব মূলত ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের। তবে তাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হলে বন বিভাগ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিআইসি) মো. মানোয়ার হোসাইন জানান, বিষয়টি বন বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থাইংখালীর বিট কর্মকর্তা আরাফাত মাহমুদ বলেন, সিআইসি কার্যালয় থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ৮ জন নিহত হন। এর একদিন পর, ৮ জুলাই কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মহিলা হেফজখানায় পাহাড়ধসে শিশুসহ আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়।
এসব ঘটনার পর শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, বর্তমানে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে বসবাস করছে। তার মতে, অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটি সরানো এবং পাহাড় কেটে নতুন বসতি নির্মাণই অধিকাংশ দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অধিকাংশ বসতি পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ করা না গেলে চলতি বর্ষা মৌসুমে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
কক্সবাজার সব খবর















