উখিয়ার ইনানীতে গ্যাসের আগুন নেভেনি, ঝুঁকি এড়াতে বিদ্যুৎ বন্ধ
উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে। আগুনের উৎস ও গ্যাসের ধরন নির্ধারণে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ঘটনাস্থলে নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) বিশেষজ্ঞ দল।
এদিকে আগুনের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় ঘটনাস্থলের চারপাশের ২০০ মিটার এলাকা বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোট খাল সেতুসংলগ্ন একটি বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য খননকাজ চলছিল। এ সময় গর্ত থেকে গন্ধযুক্ত গ্যাস বের হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে।
ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের দলপ্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম। তার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, খননকাজের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়ে থাকতে পারে। ভূগর্ভের ফাটল বা ভূতাত্ত্বিক চ্যুতির মাধ্যমে গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, গ্যাসের স্তরের ওপরের অংশ উন্মুক্ত হওয়ার পর উচ্চচাপের গ্যাস ভূগর্ভের বিভিন্ন ফাটল দিয়ে পথ তৈরি করে কয়েক দিন পরও ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসতে পারে। কোনো উৎস থেকে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মানুষের কর্মকাণ্ড কিংবা বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গও এর কারণ হতে পারে।
আগুনের শিখার রং ও ধোঁয়ার ধরন দেখে গ্যাসে তুলনামূলক ভারী হাইড্রোকার্বন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে নমুনা পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত গ্যাসের সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি ও উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না। একইভাবে গ্যাসের মজুতের পরিমাণ সম্পর্কেও এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক করে বাপেক্সের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে বা এর চাপ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভূগর্ভের অন্য কোনো দুর্বল স্থান দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে আসতে পারে। এতে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই আপাতত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে গ্যাস বের হওয়া অব্যাহত থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্স, পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে রাখতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের ২০০ মিটার এলাকা বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হবে।
উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
কক্সবাজার সব খবর















