Cvoice24.com

সাফে হামজাদের খেলা দেখতে গুনতে হবে হাজার টাকা

ক্রীড়া ডেস্ক, সিভয়েস২৪
১৪:২১, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সাফে হামজাদের খেলা দেখতে গুনতে হবে হাজার টাকা

আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই টিকিটের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হামজা-জামালদের খেলা দেখতে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। ক্লাব হাউস, ভিআইপি ও রেড বক্সের টিকিটের দাম আরও কয়েক গুণ বেশি। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের এই মূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমর্থক ও সাবেক ফুটবলাররা।

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি একাধিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন। তার মতে, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা অত্যন্ত বেশি।

এমিলি বলেন, ‘বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও ফুটবলপ্রেমীদের আনুষঙ্গিক ব্যয় বিবেচনা করে কখনোই এক হাজার টাকা টিকিটের মূল্য বাস্তবসম্মত নয়। গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে আমাকে অনেকেই টিকিট নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক হাজার টাকা টিকিটের মূল্য অত্যধিক।’

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাফুফে ভবন প্রাঙ্গণে সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম ক্যাটেল টিকিটের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্যাখ্যা দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি টিকিটে দুটি ম্যাচ দেখার সুযোগ এবং মার্কেটিং কোম্পানির বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সাফের সাধারণ সম্পাদকের ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন এমিলি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ম্যাচেই মূলত দর্শক হবে। অন্য ম্যাচগুলোতে গ্যালারি ভরবে না। এক ম্যাচ থেকে আরেক ম্যাচের ব্যবধান আড়াই ঘণ্টা। এতক্ষণ মানুষ কী করবে? এক হাজার টাকার পরিবর্তে ৫০০ কিংবা ৬০০ টাকা হলে বিষয়টি যৌক্তিক হতো।’

বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস বলেন, ‘এটা অবশ্যই দাম বেশি। কিন্তু এখানে বাফুফের কিছু করার ছিল না। সাফই টিকিটের দাম নির্ধারণ করেছে। আমাদের কাছে প্রস্তাব বা মতামতও চায়নি।’

টিকিটের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে সাফ ও বাফুফের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষি হয়েছে। টিকিটিং ও স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার পর বাফুফেকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার এবং বাকি খরচ সাফের বহন করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ভিত্তিতে মার্কেটিং পার্টনারের মতামত নিয়ে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করেছে সাফ।

সাফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ২০০৯ সাল থেকে সংস্থাটির দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ১৬ বছর বাফুফের সভাপতিও ছিলেন। ২০০৯ ও ২০১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ টুর্নামেন্টে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ৫০ টাকার মধ্যে ছিল। এবার সেই দাম এক লাফে এক হাজার টাকা হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে কাজী সালাউদ্দিন জানান, সাফের নিয়মিত মার্কেটিং পার্টনার স্পোর্টস ফাইভের সঙ্গে চুক্তি না থাকায় আন্তর্জাতিক স্পন্সর পেতে সময় লাগছে। এ কারণে টুর্নামেন্টের জন্য টিএসএ নামে একটি মার্কেটিং পার্টনার নেওয়া হয়েছে।

সালাউদ্দিন বলেন, ‘বাফুফের রয়্যালিটি, স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনা, ভিএআর, দলগুলো-রেফারিদের আসা-যাওয়া মিলিয়ে অনেক ব্যয় হচ্ছে তাদের। সেই ব্যয় পুষিয়ে নেওয়ার জন্য তারা এই দাম নির্ধারণ করেছে।’

টিকিটের দাম বেশি হওয়ায় অনেক ফুটবলপ্রেমী ম্যাচ বর্জনের পরিকল্পনা করছেন। সমালোচকদের মতে, টিকিটের দাম তুলনামূলক কম রাখলে বেশি দর্শক মাঠে আসতে পারতেন। এতে গ্যালারি পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি টিকিট বিক্রি থেকেও ভালো আয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকত।

এ বিষয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘এত ব্যয়ের পর তাদের রিটার্ন উঠানো বাস্তবিকভাবেই কঠিন। সাফের দৃষ্টিকোণ থেকে টুর্নামেন্টটি তিন বছর পর আয়োজন হতে যাচ্ছে এবং সফলভাবে হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।’

এর আগে সাফ পুরুষ চ্যাম্পিয়নশিপের বাণিজ্যিক স্বত্ব থেকে আয় করে সংস্থাটি অন্যান্য টুর্নামেন্ট পরিচালনায় অর্থ ব্যয় করত। স্পোর্টস ফাইভের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে বাংলাদেশি মার্কেটিং কোম্পানি টিএসএ টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব নেয় এবং সাফকে আয়োজনের জন্য অর্থ দেয়।

চুক্তি অনুযায়ী, টিএসএ টুর্নামেন্টের স্পন্সরশিপ, টিকিট, টেলিভিশন ও মাঠ-সংক্রান্ত বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি করে আয় করবে। অন্যদিকে, ওই অর্থ দিয়ে সাফ টুর্নামেন্ট পরিচালনার পাশাপাশি বাফুফেকে রয়্যালিটি দেবে। সব ব্যয় মেটানোর পর সাফের তহবিলে কতটা অর্থ থাকবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, হামজা চৌধুরী জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর বাংলাদেশের ঘরের মাঠের ম্যাচগুলো ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ও টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। সিঙ্গাপুর, ভারত ও হংকংয়ের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তিন ম্যাচে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ছিল ৪০০ টাকা। এবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তা বেড়ে এক হাজার টাকা হওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। টিকিটের দাম নির্ধারণে দর্শকদের সামর্থ্য ও মাঠে উপস্থিতির বিষয়টি কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।