Cvoice24.com

টুপটুপ রিসোর্টে আগুন: ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর

কক্সবাজার প্রতিনিধি
১৭:৪৬, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
টুপটুপ রিসোর্টে আগুন: ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে মরদেহগুলো হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান। একই দিন অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ থাকা স্কুলশিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার ১০ দিন পর রিসোর্টের পাশের একটি ডোবা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

এর আগে সোমবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)। তাঁদের বাড়ি যশোরের মনিরামপুরে।

অন্য পরিবারের নিহত ছয়জন হলেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর (৬) ও ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তাঁদের বাড়ি ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এবং বরগুনার আমতলী এলাকায়।

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন স্কুলশিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তা। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর সন্ধানে রিসোর্ট এলাকায় আবারও তল্লাশি শুরু করেন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টা তল্লাশির পর রিসোর্টের পাশের একটি ডোবা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধার করা মরদেহটি নিখোঁজ স্কুলশিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তার।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, টুপটুপ রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবর টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জনের মৃত্যু হয়। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন নাসরিন আক্তার মুক্তা। মঙ্গলবার তাঁর মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে তাঁর নিখোঁজ থাকার অবসান হলো।