Cvoice24.com
corona-awareness

ঈদের ছুটিতে বাড়লো দ্বিতীয় ডোজের অনিশ্চয়তা

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৩৮, ১০ মে ২০২১
ঈদের ছুটিতে বাড়লো দ্বিতীয় ডোজের অনিশ্চয়তা

চট্টগ্রামে করোনার দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন যতটুকু মজুত আছে তাতে চলবে ঈদের আগ পর্যন্ত। অর্থাৎ পরবর্তী দুই কার্যদিবসে চট্টগ্রামে চলবে টিকা কার্যক্রম। এরপর বৃহস্পতিবার (১৩ মে) থেকে ঈদের ছুটিতে বন্ধ হয়ে যাবে টিকা দেওয়ার কাজ। কিন্তু ঈদের পর কখন এই কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে— তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চিয়তা। যার রেশ ধরে চট্টগ্রামের টিকা কেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে উত্তেজনা-বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডেকে আনা হচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ। তবে গ্রহীতাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিভিন্ন যুক্তিও তুলে ধরছেন দায়িত্বশীলরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুরিয়ে এসেছে দ্বিতীয় ডোজ। যা আছে তা দিয়ে কোনোভাবে ঈদ পর্যন্ত ‘ম্যানেজ’ করা যাবে টিকা গ্রহীতাদের। তারপর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ঈদের ছুটি। ঈদের পরে দ্বিতীয় ডোজের টিকা কবে চট্টগ্রামে আসবে তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। যার দরুণ সৃষ্টি হয়েছে এ অনিশ্চিয়তা।

চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে যখন এমন হাহাকার। ঠিক ওই সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের চট্টগ্রামে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুত আছে সেটি ঈদ পর্যন্ত চলবে। প্রথম ডোজ গ্রহণ করা ৭০ শতাংশ ব্যক্তি দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন। এটি শুধু আমাদের চট্টগ্রাম না, সারা দেশের জন্য প্রযোজ্য। সারা দেশের মোট ১৬ লাখ মানুষ দ্বিতীয় ডোজ পাচ্ছেন না। তাদের ঈদের পরেই দ্বিতীয় ডোজ প্রদান করা হবে।’

কিন্তু সিভয়েসের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় ডোজ ঈদের পর কোনদিন থেকে শুরু হবে তা আমরা টিকা পাওয়া সাপেক্ষে বলতে পারবো। ঢাকা থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হবে। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে— ঈদের পর নতুন ভ্যাকসিন আসবে। তখন বাকি সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে।’

এদিকে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬০ জন, দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৩ লাখ ১৬ হাজার ৩০১ জন। আজ সোমবার (১০ মে) টিকা কার্যক্রম সরকারি ছুটি থাকার কারণে বন্ধ ছিল চট্টগ্রামে। 

তবে চট্টগ্রামে টিকা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও চট্টগ্রামের বিভিন্ন টিকা কেন্দ্রে ভিড় জমিয়েছে টিকা গ্রহীতারা। এসময় টিকা কার্যক্রম বন্ধ শুনে বিক্ষোভ প্রকাশ করেছে অনেকে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যলয়ের তথ্যে জানা গেছে, চট্টগ্রামে টিকা জন্য মোট নিবন্ধন করেছে ৫ লাখ ৪২ হাজার ২৭৪ জন। এর মধ্যে প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছে ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬০ জন। দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন ৩ লাখ ৫ হাজার ৮১ জন। ফলে টিকা সংকট দেখা যাওয়ায় শঙ্কায় পড়েছেন প্রায় দেড় লাখ টিকা গ্রহীতা (যারা দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষমান)।

চট্টগ্রামে নগরে বর্তমানে টিকা দেওয়া হচ্ছে ১৫টি কেন্দ্রে। যার সব ক’টিতে সীমিত সংখ্যক টিকা দিয়ে চলছে টিকা কার্যক্রম।

এদিকে চসিক সূত্র জানায়, তাদের কাছে মজুত আছে প্রায় ৮০০ ভায়াল (প্রতি ভায়ালে ১০ জনের টিকা)। সেই হিসাবে এই দু’দিনে প্রায় ৮ হাজার গ্রহীতা টিকা (দ্বিতীয় ডোজ) পাবেন। এরই মধ্যে আরও ২০ হাজার ভায়ালের জন্য আবেদন করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

যা বলছেন দায়িত্বশীলরা :

টিকা নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। এমন অবস্থায় টিকা গ্রহীতাদের ধৈর্য্যশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দায়িত্বশীলরা। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী সিভয়েসকে বলেন,  ‘অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রথম ডোজ দেওয়ার ১২ সপ্তাহ (তিন মাস) পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার নিয়ম আছে। এ বিষয়ে আরও গবেষণা চলছে যে এটা বাড়িয়ে ৪ মাস করা যায় কিনা। যদিও আমরা প্রথম ডোজ দেওয়ার ৮ সপ্তাহ (দুই মাস) পরে দ্বিতীয় ডোজ দিচ্ছি। স্বাভাবিক নিয়মে আমরা ৪ সপ্তাহ (এক মাস) বেশি সময় পাচ্ছি। কাজেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আক্তার চৌধুরী সিভয়েসকে বলেন, ‘যারা এসএমএস পাইনি। তারাও টিকা পেতে চলে আসেন। মূলত কার্ডের তারিখ দেখে টিকা নিতে আসছেন অনেকেই। কিন্তু এসএমএস না আসলে আমরা টিকা দিচ্ছি না। তাছাড়া দ্বিতীয় ডোজের যে তারিখ দেওয়া আছে তার একমাস পরও ডোজটি নেওয়া যাবে। হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই।’

-সিভয়েস/এপি

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়