Cvoice24.com

‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি’

নিউজ ডেস্ক, সিভয়েস২৪
১৬:৪০, ৬ জুন ২০২৬
‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেছেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি।

শনিবার (৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ আয়োজিত সচেতনতামূলক র‌্যালির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ড. জিয়াউদ্দীন বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে, কারণ জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে।

পরে র‌্যালিটি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে আন্দরকিল্লাসহ নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে হাসপাতালের নালায় ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে ছিটিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার।

র‌্যালি-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে এ ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, এয়ার কন্ডিশনার, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারিকেলের মালা, কন্টেইনার, মটকা, ব্যাটারি শেলসহ পরিষ্কার পানিযুক্ত বিভিন্ন স্থানে এডিস মশা ডিম পাড়ে। হাসপাতাল, ঘরবাড়ি ও আশপাশের যে কোনো পাত্র বা স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করলে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করা যায়।

তিনি আরো বলেন, জীবন রক্ষার জন্য যে কোনো উপায়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল অপসারণ এবং মশারি ব্যবহারের মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি) ডা. অজয় দাশ, বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জাবেদ এবং আগ্রাবাদস্থ সরকারি মেডিকেল সাব-ডিপোর ম্যানেজার ডা. সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া এমএসএফ, ব্র্যাক, আইসিডিডিআরবি’র প্রতিনিধি  প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা র‌্যালিতে অংশ নেন।

স্বাস্থ্য সব খবর