Cvoice24.com

প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেয়ে রাঙামাটিতে উচ্ছ্বাস

রাঙামাটি প্রতিবেদক, সিভয়েস২৪
২০:৩৫, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেয়ে রাঙামাটিতে উচ্ছ্বাস

পার্বত্য চুক্তির আলোকে সৃষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত রাঙামাটিবাসী। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। দীর্ঘ সময় পর রাঙামাটির সাংসদ মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় আনন্দের বন্যা বইছে জেলাজুড়ে।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পরের বছর ১৫ জুলাই তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা হয়। শুরুতে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত কল্পরঞ্জন চাকমা। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট জয়ী হওয়ার পর রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মনিস্বপন দেওয়ানকে উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠনের পর রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালে বান্দরবানের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুরকে প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সালে পুনরায় বীর বাহাদুরকে পার্বত্য মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০২৪ সালে একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করার পর খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব পেলেও এই প্রথম রাঙামাটি জেলা থেকে কোনো সংসদ সদস্য পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর উচ্ছ্বসিত রাঙামাটিবাসী। নেতাকর্মীরা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীপেন দেওয়ানকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। তাঁকে রাঙামাটিতে রাজকীয় বরণের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটি সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রনেল দেওয়ান বলেন, দীপেন দেওয়ানের নেতৃত্বে আমরা গত ২০ বছর ধরে সক্রিয় ছিলাম। তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর দুঃসময়ে দলের পাশে ছিলেন। তাঁর এই ত্যাগ দল মূল্যায়ন করেছে। রাঙামাটিবাসী তাঁকে জাঁকজমকভাবে বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো বলেন, আমাদের নেতা তারেক জিয়া রাঙামাটিবাসীকে মূল্যায়ন করেছেন। দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধানে ভোট জিতে এই আসনটি উপহার দেওয়ায় তিনি রাঙামাটির মানুষের গণরায়কে স্বীকৃতি দিয়ে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব দিয়েছেন। রাঙামাটিবাসী তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। দীপেন দেওয়ান এই আস্থার প্রতিদান দেবেন। শিগগিরই তাঁকে রাঙামাটিতে রাজসিক বরণ করা হবে।

এদিকে প্রথমবারের মতো এই মন্ত্রণালয়ে দুইজনকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিন পার্বত্য জেলার বাইরে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল।