দুই বছরেও সরেনি মৃত্যুঝুঁকি, বৈদ্যুতিক খুঁটি-তারে আতঙ্কে ৩৫ পরিবার
অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই (রাঙামাটি); সিভয়েস২৪
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দুই বছর ধরে সড়ক ও বসতঘরের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ১১ কেভি সঞ্চালন লাইন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এসব খুঁটি ও তারের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কায় রয়েছেন ৩ নম্বর চিৎমরম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী দুর্গম পাড়ার অন্তত ৩৫টি পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রবিবার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বটতলী দুর্গম পাড়ার চলাচলের একমাত্র সড়কের ওপর বিপজ্জনকভাবে পড়ে রয়েছে ১১ কেভি সঞ্চালিত বৈদ্যুতিক তার। কয়েকটি বসতবাড়ির ওপরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বটতলী ২ নম্বর পাড়ার বাসিন্দা ক্যাউথোয়াই চিং মারমা ও আদোমা মারমা অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দুই বছর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরাজীর্ণতার কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি ও তার ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে খুঁটিগুলো মাটিতে ও ঘরের চালে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও কোনো সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তারা বলেন, এ বিষয়ে কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি দেখে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারী খুঁটি ও তার ঠিক করার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় পরে আর কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মানু মারমা ও উসুই থোয়াই মারমা বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইতোমধ্যে একাধিক পরিবারের গরু-ছাগল মারা যাওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন নারী, শিশুসহ পাড়ার বাসিন্দারা। দ্রুত বিষয়টির সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
এ ব্যাপারে কথা হলে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিৎমরমের স্থানীয় বাসিন্দা উথোয়াই মং মারমা জানান, তিনি কিছুদিন আগে বটতলী এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা পরিদর্শনে গেলে বিষয়টি তার নজরে আসে। এরপর তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, ওই এলাকার মানুষ হতদরিদ্র। নিজেদের অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ সংস্কারের কাজ করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। ফলে অর্থের সংস্থান করতে না পারায় দীর্ঘ দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখনো বিদ্যুৎ বিভাগ সংস্কারকাজ করেনি। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে ৩৫টি পরিবার মরণ আতঙ্কে দিনযাপন করছে। এ বিষয়ে বর্তমান জনবান্ধব সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন উথোয়াই মং মারমা।
জানতে চাইলে কাপ্তাই বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল ইসলাম জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। তার অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তাকে বিষয়টি অবহিত করেননি। তবে তিনি শিগগিরই এলাকাটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
পাহাড় সব খবর















