কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি হলো ‘এসডিজি ভিলেজ’
কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম মিতিঙ্গাছড়ি ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামটির মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের তিনটি গ্রামে এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। দেশের নির্বাচিত তিন গ্রামের একটি মিতিঙ্গাছড়ি।
কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের এই পাহাড়ি গ্রামে ১৬২টি পরিবারের বসবাস। গ্রামটি এসডিজি ভিলেজ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ দেখা দিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিতিঙ্গাছড়ির বাসিন্দা সুইহ্লাপ্রু মারমা ও সপ্না মারমা বলেন, দেশের মাত্র তিনটি গ্রামের মধ্যে তাদের গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে নির্বাচিত করায় তারা আনন্দিত। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা আশা করেন।
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এসডিজি ভিলেজ করা ছিল বিএনপি সরকারের একটি স্বপ্ন। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের কাজ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।’
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য সামনে রেখে মিতিঙ্গাছড়িতে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য হ্রাস, কৃষিভিত্তিক জীবিকার উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং নারীর ক্ষমতায়ন।’
এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ, ডিজিটাল সেবা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হলে দুর্গম এই পাহাড়ি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও যোগাযোগসুবিধার উন্নয়ন হলে গ্রামের মানুষের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে।
অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদ, বন বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামের বাসিন্দারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দেশের তিনটি গ্রামকে নিয়ে শুরু হওয়া এই পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের একটি মডেল তৈরি করতে চায় সরকার।
মিতিঙ্গাছড়ির বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পরিকল্পনাগুলো কাগজে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে কার্যকর হলে দুর্গম এই গ্রামের মানুষের জীবনমান বদলে যাবে।
পাহাড় সব খবর















