Cvoice24.com

মন্ত্রিসভায় এবারও চট্টগ্রামের পুরনোরা!

আবরার শাহরিয়ার
১৭:১৪, ১০ জানুয়ারি ২০২৪
মন্ত্রিসভায় এবারও চট্টগ্রামের পুরনোরা!

কাকে ছাপিয়ে কে সংসদে বসছেন— সেই নজর ফিরিয়ে এখন সবার চোখ নতুন মন্ত্রিসভার দিকে। চট্টগ্রাম থেকে নতুন মন্ত্রিসভায় কজনের ঠাঁই হচ্ছে সেদিকেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি চট্টগ্রামবাসীর। হিসাব-নিকাশ বলছে, এবারও পুরনোরা মন্ত্রিত্বের স্বাদ পাচ্ছেন। দুয়েকজন নতুন করে যুক্ত হওয়ার কথা শোনা গেলেও এর সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই হিসাব-নিকাশের চূড়ান্ত জানতে অপেক্ষা করতে হবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। এদিন সন্ধ্যায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ পড়ানো হবে বঙ্গভবনে। ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে বুধবার রাতেই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হওয়াদের কাছে বার্তা পৌঁছে যাওয়ার কথা।

সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম থেকে আগের মতো নতুন মন্ত্রিসভায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা-উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাছান চৌধুরী নওফেল ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং থাকছেন—এটা অনেকটা নিশ্চিত। তবে তাদের কয়েকজনের দপ্তর বদল হতে পারে। শিক্ষা উপমন্ত্রীকে এবার হয়তো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বাকি তিন পূর্ণ মন্ত্রীদের কোন দপ্তরে বসানো হচ্ছে এর কোনো হিসাব কষা যাচ্ছে না এই মূহূর্তে। তবে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে ভূমি মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা-উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাছান চৌধুরীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে না সরানোর সম্ভাবনাই বেশি।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে রাউজানের এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে মন্ত্রীর তালিকায় রাখা হচ্ছে। তাঁর নির্বাচনী এলাকার লোকজন এবার খুব করে চাইছেন, তাঁদের পাঁচবারের এমপি ফজলে করিম এবার মন্ত্রী হবেন। তবে কেউ কেউ তাকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় সংসদের হুইপ করা হতে পারে বলে মনে করছেন। এদিকে টেকনোক্র্যাট কোটায় দলের বয়োজ্যষ্ঠ এক নেতাকে মন্ত্রীর বহরে যোগ করা হতে পারে বলে গুঞ্জন ওঠেছে। আর ওয়াসিকা আয়েশা খানকে আবারো সংরক্ষিত আসনের এমপি করা হতে পারে। এরপর আওয়ামী লীগের এই অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদককে অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়াসিকা আয়েশা খান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম আতাউর রহমান খান কায়সারের কন্যা। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৃতীয় সরকারের বহরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে প্রথম মন্ত্রিসভায় যুক্ত হন রাঙ্গুনিয়ার এমপি ড. হাছান মাহমুদ। ছয় মাস পরে দপ্তর বদলিয়ে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। একই বছরে ওই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী করা হয় তাঁকে। সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বভার পান আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

'দলিল যার, জমি তার'— ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ পাশ হয়েছে সরকারের মেয়াদ ফুরানোর মুহূর্তে। এই আইন প্রণয়ণের মূল কারিগর ছিলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ভূমি বিরোধ ঘিরে আরো বহু কাজ বাকি তাঁর। নানা সময়ে এসব জানান দিয়েছেন তিনি। দেশজুড়ে আলোচিত এ মন্ত্রীর কর্মকাণ্ড শেষ করার সুযোগ প্রধানমন্ত্রী দিবেন— প্রত্যাশা সবার।  বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম সংসদে বসেন ভূমিমন্ত্রী জাবেদ। পরে ধারাবাহিকভাবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও। দায়িত্ব পান পূর্ণ মন্ত্রীর।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন শিক্ষা কারিকুলাম পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত মহিবুল হাছান চৌধুরীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রাখা হবে বলে ধারণা করছেন অনেকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম সংসদে বসেন মহিউদ্দিনপুত্র নওফেল। ২০১৯ সালে সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তবে মন্ত্রিসভায় কার ঠাঁই হচ্ছে, না হচ্ছে সব নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করবেন শেখ হাসিনা। পরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম থেকে দুজনকে পূর্ণ মন্ত্রী ও একজনকে উপমন্ত্রী করা হয়। এবার চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) ছাড়া বাকি সব আসন আওয়ামী লীগের ভাগে। এর মধ্যে তিন ‘আওয়ামী’ স্বতন্ত্রসহ নতুন মুখ রয়েছেন ৭ জন।

শেখ হাসিনার চার সরকারে চট্টগ্রাম থেকে ছিলেন যাঁরা

১৯৯৬ সালে নির্বাচনের পর প্রথম মন্ত্রিসভা গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সরকারে চট্টগ্রাম থেকে ঠাঁই পান নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত এম এ হান্নান। তিনি দায়িত্ব পান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের। ওই সরকারে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রথম মন্ত্রী হন খাগড়াছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য কল্পোরঞ্জন চাকমা।

২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। ওই মন্ত্রিসভায় প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান প্রয়াত সংসদ সদস্য আফছারুল আমিন। মহাজোটের শরীক দল সাম্যবাদী দল থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর ‘ভাগ’ জুটে সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জন্মস্থান তাঁর। এবার এই আসনে নৌকার ভাগও চেয়েছিলেন এই নেতা। এই সরকারের ওই বহরে প্রথমে পররাষ্ট্র , পরে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হন ড. হাছান মাহমুদ। পরে তাঁকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন রাঙামাটির দীপঙ্কর তালুকদার।

শেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রিসভা গঠিত হয় ২০১৪ সালে ১২ জানুয়ারি। ওই বছরের ৬ নভেম্বর টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রবীণ নেতা মোশাররফ হোসেন, ‘জাপার কোটায়’ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন। ভূমি প্রতিমন্ত্রী করা হয় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে এবং পাবর্ত্য বিষয়ক চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর ভার পড়ে বীর বাহাদুর উশৈ শিংয়ের কাঁধে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার চতুর্থ সরকারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসাবে ঠাঁই হয় ড. হাছান মাহমুদের। পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান সাবেক প্রতিমন্ত্রী বান্দরবানের বীর বাহাদুর উশৈ শিং, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। উপমন্ত্রী করা হয় ব্যারিস্টার মহিবুল হাছান নওফেলকে।

রাজনীতি সব খবর