Cvoice24.com

শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রতিশ্রুতির বন্যা ফটিকছড়িতে

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ি
১৩:৪২, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রতিশ্রুতির বন্যা ফটিকছড়িতে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টায় প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা সম্পন্ন করেছেন প্রার্থীরা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কর্মীসভা, পথসভা, ঘরোয়া বৈঠক ও গণসংযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছেছেন তারা।

এবার ফটিকছড়িতে লড়ছেন মোট আট প্রার্থী, তারা হলেন— এগার দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নূরুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপি মনোনীত সরোয়ার আলমগীর (ধানের শীষ), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (একতারা), গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান তানজিম (ট্রাক), জনতা পার্টির গোলাম নওশের আলী (কলম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জুলফিকার আলী মান্নান (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবির করিম (ফুটবল) ও জিন্নাত আক্তার (হরিণ)।

এদের মধ্যে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবির করিম ‘ফুটবল’ প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নূরুল আমিনকে সমর্থন জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। 

এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি এক বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যের ঘোষণা দেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের সরওয়ার আলমগীর, জনতার দল মনোনীত গোলাম নওশের আলী (কলম) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার (হরিণ)।

প্রতীক বরাদ্দের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণা জমজমাট হয়ে উঠে ফটিকছড়িতে। অলি-গলি ও পাড়া-মহল্লা মুখরিত নির্বাচনী আমেজে। গান, স্লোগান ও মাইকিংয়ের মধ্যে প্রার্থীদের প্রতীক সম্বলিত সাদা-কালো ব্যানার ও ফেস্টুন পুরো এলাকা ছেয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাড়ার অলি-গলিতে চায়ের চুমুকে চলছে নির্বাচনী আড্ডা। ভোটাররা প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও নানা জল্পনা-কল্পনা করছেন। কেউ ভাবছেন, কে নির্বাচিত হবেন, আর নির্বাচিত হলে এলাকার জন্য কী ভালো হবে—এগুলো এখন নির্বাচনী আলোচনার মূল বিষয়। পাড়া-মহল্লা, দোকান, অফিস, ক্লাব ও সামাজিক সংগঠন—সর্বত্রই সরগরম নির্বাচনী কথাবার্তায়।

শেষ দিনে উপজেলার বাগানবাজার থেকে শুরু করে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে তিনি নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘ফটিকছড়ির মাটি বিএনপির ঘাঁটি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এটি আবার প্রমাণিত হবে। ধানের শীষের যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা থামানোর ক্ষমতা কারো নেই। ফটিকছড়ি ও দেশের মানুষ বিগত ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি। কোটি কোটি তরুণ-তরুণী এবার প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছে এবং এই প্রথম ভোটই তারা ধানের শীষে দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধানের শীষ সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রতীক। ধানের শীষের দল ক্ষমতায় থাকলেই দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে, মানুষ সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে থাকবে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য আমি ভোট কামনা করি।’

এদিকে, এগার দলীয় জোট মনোনীত জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ নূরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় দ্বারে দ্বারে প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রচারণায় সর্বস্তরের মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া এবং ভালোবাসা আমাদের ঋণী করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের চোখ-মুখে এখন ইনসাফ কায়েমের দৃঢ় প্রত্যয়। ইনশাআল্লাহ, আপনারা যে ঐক্যবদ্ধ সমর্থন দেবেন, সেটিই আগামী নির্বাচনে ফটিকছড়িতে ন্যায়বিচারের বিজয় নিশ্চিত করবে।’

অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে কিছুটা দেরি করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (একতারা)। তবে তারপরও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চষে বেড়িয়েছেন তিনি।  এই প্রার্থী বলেন, ‘একতারা প্রতীক শুধু একটি চিহ্ন নয়, এটি দুর্নীতি ও দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রতীক। জনগণের ভোটের মাধ্যমে ফটিকছড়িতে পরিবর্তন সম্ভব। পুরো উপজেলার মানুষ এখন একতারার পক্ষে সমর্থনের জোয়ার তৈরি করেছেন। দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত এবং অর্থ লুটপাটমুক্ত করতে একতারার বিকল্প নেই।’

মোট ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ফটিকছড়ি উপজেলা দুই পৌরসভা ও ১৮ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৫ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫৯ হাজার ১৯৭ জন, নারী ভোটার দুই লাখ ২৯ হাজার ২৬৭ জন এবং হিজড়া ভোটার একজন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৪০টি।

তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেন। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয় ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭.৩০ পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।