Cvoice24.com

ভোটারদের নজর ১২ ফেব্রুয়ারিতে
ফটিকছড়িতে আগামীর সাংসদ কে?

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ি
১২:০১, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফটিকছড়িতে আগামীর সাংসদ কে?

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফটিকছড়ি আসন আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব দেখা গেছে এ আসনে। সেই ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে জমে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বদলেছে সমীকরণ—এখন সবার চোখ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিকে।

ফটিকছড়ি আসনে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী পাকিস্তানি শাসন আমলে জাতীয় আইন পরিষদের সদস্য এবং স্বাধীনতা পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে অনেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৪৬-৫৪ সালে খান বাহাদুর ফরিদ আহমদ চৌধুরী, ১৯৬২-৬৪ সাল পর্যন্ত বিশিষ্ট বাঙালি মুসলিম শিল্পপতি এ.কে. খান, ১৯৫৪-৫৮ সাল পর্যন্ত বিশিষ্ট আলেম মওলানা ওবাইদুল আকবর এবং একই সময়ে প্রবীণ রাজনীতিবিদ পূর্ণেন্দু দস্তিদার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২-৬৫ ও ১৯৬৫-৭০ সাল পর্যন্ত বিশিষ্ট শিল্পপতি মির্জা আবু আহমদ এবং ১৯৭০-৭৩ সাল পর্যন্ত ফজলুল হক বিএসসি ও মির্জা আবু মনসুর সাংসদ বা জাতীয় আইন পরিষদের সদস্য ছিলেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩-৭৫ এবং ১৯৮৬-৮৭ সাল পর্যন্ত সাংসদ ছিলেন নুরুল আলম চৌধুরী। তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। 

১৯৭৯-৮২ সাল পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থী জামাল উদ্দীন আহমদ সাংসদ ছিলেন; তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। ১৯৮৮-৯০ সালে জাসদ (রব) নেতা মাজহারুল হক শাহ চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

১৯৯১-৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী নির্বাচিত হন। ১৯৯৬-২০০০ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফিকুল আনোয়ার সাংসদ ছিলেন; ২০০১ সালেও তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালে বিএনপি প্রার্থী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী পুনরায় নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন গঠন করেন এবং আওয়ামী লীগের শরিক দল হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য হন।

১৯৯৬ সালে জাতীয়তাবাদী দলের মহিলা সাংসদ প্রার্থী হিসেবে ফটিকছড়িসহ চট্টগ্রাম উত্তর মহিলা আসনে নুরী আরা ছাফা মহিলা এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগ নেত্রী সাহেদা তারেক দীপ্তি ও খাদিজাতুল আনোয়ার সনি দায়িত্ব পালন করেন। খাদিজাতুল আনোয়ার সনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হন।

এবারের নির্বাচনে ফটিকছড়ি আসনে লড়ছেন ৮ প্রার্থী। তারা হলেন—বিএনপি মনোনীত সরোয়ার আলমগীর (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নূরুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (একতারা), গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান তানজিম (ট্রাক), জনতা পার্টির গোলাম নওশের আলী (কলম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জুলফিকার আলী মান্নান (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবির করিম (ফুটবল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আরা (হরিণ)। 

তবে নির্বাচনের আগে পাল্টেছে সমীকরণ। ১০ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রবিউল হাসান তানজিম ধানের শীষের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিনকে সমর্থন জানিয়ে ‘ফুটবল’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমদ কবির করিম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি এক বৈঠকে বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর, জনতা দলের প্রার্থী গোলাম নওশের আলী (কলম) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার (হরিণ) ঐক্যের ঘোষণা দেন।

৭৭৩ বর্গকিলোমিটারের এ উপজেলা দুই পৌরসভা ও ১৮ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ১৯৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ২৬৭ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন একজন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৪০টি।

তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রচারণা শেষ হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায়।

এখন অপেক্ষা ভোটের। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ফটিকছড়ির ভোটাররা ঠিক করবেন—দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের এ আসনে কে হতে যাচ্ছেন পরবর্তী সংসদ সদস্য।