ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলো আইসিসি
ক্রীড়া ডেস্ক, সিভয়েস২৪
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কড়া বার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটের ওপর গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে সংকট নিরসনে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) আহ্বান জানিয়েছে আইসিসি।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে পাকিস্তান দলকে। তবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না।
এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, এ বিষয়ে এখনো পিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পাকিস্তান সরকারের অবস্থান সম্পর্কে তারা অবগত থাকলেও বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি।
আইসিসি বিবৃতিতে জানায়, নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সব দল সমান শর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে—এটাই প্রত্যাশিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইসিসির টুর্নামেন্টগুলো ক্রীড়াসুলভ সততা, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, ধারাবাহিকতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। নির্দিষ্ট ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত এসব প্রতিযোগিতার চেতনা ও শুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
আইসিসি জানায়, তারা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে সরকারের ভূমিকার প্রতি সম্মান জানায়। তবে এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেটের স্বার্থে কিংবা বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ইতিবাচক নয় বলেই মনে করছে সংস্থাটি।
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, পিসিবির উচিত নিজ দেশের ক্রিকেটের ওপর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া। কারণ এ ধরনের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে, যার অংশীদার হিসেবে পিসিবি নিজেই যুক্ত।
বিবৃতির শেষাংশে আইসিসি জানায়, তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করা। এ দায়িত্ব পিসিবিসহ সব সদস্য বোর্ডের। তাই সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পিসিবি একটি পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানানো হয়।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ পাকিস্তান সরকার এখনো স্পষ্ট করেনি। তবে এর আগে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আইসিসির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। সে সময় তিনি বলেছিলেন, টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি। কেবল আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের টুর্নামেন্টেই মুখোমুখি হয় দুই দেশ। গত বছর এশিয়া কাপে ভারতীয় দলের পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মেলানো নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
খেলাধুলা সব খবর















