Cvoice24.com

অচলাবস্থার অবসান, কলম্বোতে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক, সিভয়েস২৪
১২:৩৬, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অচলাবস্থার অবসান, কলম্বোতে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে প্রায় দশ দিন ধরে চলা অচলাবস্থার অবসান হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নির্ধারিত ম্যাচে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রায় একই সময়ে পাকিস্তান সরকার এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পৃথক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। 

উভয় বিবৃতিতেই টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বার্থ, সম্প্রচার চুক্তি এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার কথা উল্লেখ করা হয়।

সরকারের নির্দেশনায় সিদ্ধান্ত

পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) ম্যাচ বর্জন না করার অনুরোধ জানায়। তারা সতর্ক করে জানায়, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে টুর্নামেন্টের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন। আলোচনার পরই সরকারিভাবে জাতীয় দলকে মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক আলোচনার ফলাফল এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার জাতীয় দলকে ১৫ ফেব্রুয়ারি মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছে। ক্রিকেটের চেতনা রক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী খেলাটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।’

আইসিসির অবস্থান

আইসিসিও এক বিবৃতিতে জানায়, পিসিবির সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘সব সদস্য দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রেখে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বকাপ সফল করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে।’

পাকিস্তানকে বাংলাদেশের অনুরোধ

এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থান। ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় পিসিবিকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায় বিসিবি।

সোমবার ঢাকায় বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা ও ইতিবাচক ভূমিকার জন্য পিসিবি, আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন রাজা নাকভি এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রশংসা করা হয়।

বিসিবি সভাপতি এমডি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই সময়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পাকিস্তান যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক আলোচনা ও সফরের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে পুরো ক্রিকেট ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশ যেভাবে লাভবান

এই আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাংলাদেশের অবস্থান। ভারত সফরে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আইসিসির ‘দ্বৈত নীতি’র অভিযোগ তোলে পিসিবি। পরে আইসিসি স্পষ্ট করে জানায়, এ ঘটনায় বাংলাদেশের ওপর কোনো শাস্তি আরোপ করা হবে না।

এছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ২০২৮–৩১ মেয়াদে আরও একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে বিসিবি পিসিবিকে ধন্যবাদ জানায় এবং ভারত ম্যাচে অংশ নিতে পাকিস্তানকে অনুরোধ করে।

আলোচনার সময় পিসিবি আইসিসির রাজস্ব বণ্টন কাঠামো নিয়েও আপত্তি তোলে বলে জানা গেলেও, সরকার বা আইসিসির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। একইভাবে ভারত-পাকিস্তান বা ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের কোনো শর্ত আরোপ করা হয়নি বলেও দাবি করেছে পিসিবি।

এর আগে, লাহোরে পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি, বিসিবি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম এবং আইসিসি পরিচালক ইমরান খাজা বৈঠকে বসেন। সেখানে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে অবস্থান নেয় পিসিবি।

পেছনের বিতর্ক

গেল জানুয়ারিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান ভারতে আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। পরে আইসিসি সেই আবেদন নাকচ করলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।

এই সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ ও ‘দ্বৈত নীতি’ বলে মন্তব্য করেন পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, তা সবার জন্যই সমান হওয়া উচিত।’

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে ভারতের ম্যাচগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আয়োজন করা হয়েছিল। ‘অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এটি স্পষ্ট বৈষম্য,’ বলেন নাকভি।

সবশেষে বাংলাদেশের বিষয়ে আইসিসির সিদ্ধান্ত, বিসিবির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পাকিস্তান সরকারের নির্দেশনার পর দ্রুত বদলে যায় পরিস্থিতি। দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। সৌজন্যে বিবিসি বাংলা

খেলাধুলা সব খবর