Cvoice24.com

উখিয়ায় রিসোর্টে আগুন: ১০ দিন পর মিললো নিখোঁজ শিক্ষিকার মরদেহ

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৫:৪৮, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
উখিয়ায় রিসোর্টে আগুন: ১০ দিন পর মিললো নিখোঁজ শিক্ষিকার মরদেহ

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর নিখোঁজ স্কুলশিক্ষক নাসরিন আকতার মুক্তার (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে রিসোর্টটির ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ স্কুলশিক্ষক নাসরিন আকতার মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারও মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, মঙ্গলবার সকালে নিখোঁজ মুক্তার সন্ধানে রিসোর্ট এলাকায় আবারও তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

গত ১৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার পাটুয়ারটেকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন তিনতলা টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের পর ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন ১১ জন। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তবে নিখোঁজদের তালিকায় থাকা মুক্তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার শ্যামলী এলাকার একই পরিবারের মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

এ ছাড়া ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার আরেক পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে রয়েছেন মৌলিহা মেহজাবিন আলভী (১৯), লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামী (২৪)।

নিখোঁজ নাসরিন আকতার মুক্তা আশুলিয়ার ‘স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের’ শিক্ষিকা ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি দুই বান্ধবীকে নিয়ে রিসোর্টে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তাঁর বান্ধবীরা রিসোর্ট থেকে বের হতে পারলেও মুক্তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়া ও অপর মালিক নেওয়াজ মোর্শেদ পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।